২২ এপ্রিল থেকেই কি রাজ্যে গরমের ছুটি? ভোটের ডামাডোল আর দাবদাহে নবান্নে শুরু বড় তোড়জোড়

এপ্রিলের শুরু থেকেই বাংলার আকাশজুড়ে আগুনের লেলিহান শিখা। মাঝেমধ্যে কালবৈশাখীর দেখা মিললেও তাপমাত্রার পারদ জেলায় জেলায় ৪০ থেকে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁইছুঁই। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস বলছে, সপ্তাহের শেষে ফের বাড়বে লু-এর দাপট। এরই মধ্যে দোরগোড়ায় ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন। আবহাওয়া আর রাজনীতির এই জোড়া উত্তাপে এবার কি রাজ্যের স্কুলগুলিতে নির্ধারিত সময়ের আগেই এগিয়ে আসছে গরমের ছুটি? এই প্রশ্নই এখন ঘোরাফেরা করছে অভিভাবক ও শিক্ষক মহলে।

মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) অফিসিয়াল ছুটির তালিকায় মে মাসে মাত্র ৬ দিনের গ্রীষ্মাবকাশের কথা বলা হলেও, বাস্তব পরিস্থিতি বলছে অন্য কথা। শিক্ষা দপ্তরের সাম্প্রতিক ‘সামার প্রজেক্ট’ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ২১ এপ্রিলের মধ্যে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ওরিয়েন্টেশন প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। যেহেতু ২৩ এপ্রিল রাজ্যে প্রথম দফার ভোট, তাই ২২ এপ্রিল থেকেই অধিকাংশ স্কুল ভবন ভোটগ্রহণের জন্য প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে। এছাড়া শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বড় অংশ নির্বাচনের কাজে নিযুক্ত থাকবেন। স্বাভাবিকভাবেই ওই সময় থেকে স্কুল চালানো কার্যত অসম্ভব।

শিক্ষক সংগঠনগুলিও পর্ষদের দেওয়া ১১-১৬ মে’র স্বল্পমেয়াদী ছুটি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। দক্ষিণবঙ্গের ভয়াবহ তাপপ্রবাহের পরিস্থিতিতে মাত্র ৬ দিনের ছুটি পড়ুয়াদের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলেই মনে করছেন তাঁরা। ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, ২১ এপ্রিল ওরিয়েন্টেশন শেষ হওয়ার পর ২২ এপ্রিল থেকেই রাজ্যে গরমের ছুটি ঘোষণা করতে পারে নবান্ন। যদিও শিক্ষা দপ্তরের তরফে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিলমোহর পড়েনি, তবে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে খুব শীঘ্রই সরকারি নির্দেশিকা আসার সম্ভাবনা রয়েছে।