পশ্চিম এশিয়ায় স্বস্তির হাওয়া! ইরান-মার্কিন যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানাল ভারত, খুলছে হরমুজ প্রণালী!

এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর অবশেষে থামল কামান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। এই আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্তকে বড় জয় হিসেবে দেখছে বিশ্বমহল। আমেরিকার এই পদক্ষেপ এবং তেহরানের সম্মতির পর এবার ভারতের পক্ষ থেকেও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। নয়াদিল্লি আশা প্রকাশ করেছে যে, এই অস্থায়ী বিরতিই ভবিষ্যতে স্থায়ী শান্তি স্থাপনের প্রথম ধাপ হয়ে উঠবে।

ভারতের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া
বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, “আমরা এই যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। ভারত বরাবরই মনে করে যে, যে কোনও যুদ্ধের সমাধান কেবল আলোচনা, কূটনীতি এবং উত্তেজনা প্রশমনের মাধ্যমেই সম্ভব। আমরা আশা করি এই পদক্ষেপ পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবে।” ভারত আরও জানিয়েছে যে, দীর্ঘদিনের এই লড়াই সাধারণ মানুষের জীবনে চরম দুর্ভোগ ডেকে এনেছে এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যিক নেটওয়ার্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

হরমুজ প্রণালী ও বাণিজ্যিক উদ্বেগ
ভারতের উদ্বেগের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী। যুদ্ধের কারণে এই পথ রুদ্ধ হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশছোঁয়া হয়েছিল। বিদেশ মন্ত্রক তাদের বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, “আমরা আশা করি হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল এবার স্বাভাবিক হবে এবং বিশ্বজুড়ে পণ্য ও জ্বালানি সরবরাহ কোনো বাধা ছাড়াই চলবে।” উল্লেখ্য, এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহ করা হয়, যা ভারতের শক্তি নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পরবর্তী পদক্ষেপ: ইসলামাবাদ বৈঠক
পাকিস্তান এই যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে। আগামী শুক্রবার ইসলামাবাদে ওয়াশিংটন এবং তেহরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ভারত এই কূটনৈতিক তৎপরতার ওপর কড়া নজর রাখছে। তবে শান্তির আবহেও সতর্ক দিল্লি; বুধবারই তেহরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস সেখানকার ভারতীয় নাগরিকদের দ্রুত দেশ ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছে, কারণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনও যথেষ্ট অনিশ্চিত।