একটা চড়েই শুরু ধ্বংসলীলা! মিরাটের বিখ্যাত মার্কেটে বুলডোজারের তাণ্ডব, ধুলোয় মিশছে কোটি টাকার ব্যবসা!

উত্তরপ্রদেশের মিরাটের ঐতিহ্যবাহী সেন্ট্রাল মার্কেট এখন এক রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। কয়েক দশক ধরে যে এলাকা ছিল ব্যবসার প্রাণকেন্দ্র, আজ সেখানে শুধুই ধ্বংসস্তূপ আর কান্নার রোল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে নেওয়া কঠোরতম পদক্ষেপে কার্যত স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে গোটা বাজার। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সরকারি বুলডোজার আসার আগেই ব্যবসায়ীরা নিজেদের দোকান নিজেরাই ভেঙে ফেলছেন। কিন্তু এই বিশাল ধ্বংসলীলার সূত্রপাত হয়েছিল ১২ বছর আগেকার একটি ছোট্ট ঘটনা থেকে।
একটি চড় এবং এক আরটিআই কর্মীর লড়াই
২০১২ সালে আরটিআই কর্মী লোকেশ খুরানা ৬৬১/৬ নম্বর প্লটে অবৈধ নির্মাণের অভিযোগ তুলেছিলেন। তদন্তে আসা এক আবাসন উন্নয়ন আধিকারিককে মেজাজ হারিয়ে চড় মেরে বসেন এক ব্যবসায়ী। এই অপমানই কাল হয়ে দাঁড়ায় গোটা মার্কেটের জন্য। এরপরই খুরানা আদাজল খেয়ে নামেন নথি সংগ্রহে। হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হতেই বেরিয়ে আসে দুর্নীতির পাহাড়। তদন্তে দেখা যায়, নামী এই মার্কেটের সিংহভাগই দাঁড়িয়ে আছে অবৈধ ভিত্তির ওপর।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ৪৪টি সম্পত্তি সিল
দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর সুপ্রিম কোর্ট অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে। শীর্ষ আদালতের নির্দেশে বর্তমানে ৪৪টি বড় সম্পত্তি সিল করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে ৬টি হাসপাতাল, ৫টি স্কুল এবং বেশ কিছু নামী ব্যাংক। হাইকোর্টও আগামী ৯ তারিখের মধ্যে প্রশাসনের কাছে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তলব করেছে। এর ফলে কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থান এবং কোটি কোটি টাকার বিনিয়োগ আজ প্রশ্নের মুখে।
উত্তপ্ত মিরাট: শুরু রাজনৈতিক চাপানউতোর
বুলডোজার অ্যাকশন শুরু হতেই মিরাটের রাজনীতিতে পারদ চড়তে শুরু করেছে। একদিকে ব্যবসায়ীরা শাসক দলের ওপর ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন, অন্যদিকে বিরোধী দলের নেতারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে সরকারের ‘বুলডোজার নীতি’র সমালোচনা করছেন। তবে প্রশাসন সাফ জানিয়েছে, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। দুর্নীতির ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এই বিশাল সাম্রাজ্যের পতন এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা।