ভোটের মুখে কালীঘাটে ‘বলিউড কুইন’! কঙ্গনার কলকাতায় আগমনে কি নতুন সমীকরণ? জল্পনা তুঙ্গে।

বাংলায় যখন বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বেজে গিয়েছে, ঠিক তখনই সাতসকালে কালীঘাট মন্দিরে উদয় হলেন বলিউড অভিনেত্রী তথা হিমাচল প্রদেশের মান্ডি লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রানাওয়াত। হালকা গোলাপি রঙের শাড়ি আর গলায় মানসৈ গয়নায় কঙ্গনার উপস্থিতি ছিল নজরকাড়া। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, এই সফর কি কেবলই আধ্যাত্মিক, নাকি এর পিছনে লুকিয়ে রয়েছে বড় কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য?
মায়ের চরণে প্রার্থনা ও নারী সুরক্ষা
নিজেকে ‘শক্তির উপাসক’ দাবি করা কঙ্গনা এদিন দক্ষিণেশ্বর ভৈরব মন্দিরেও পুজো দেন। পুজো শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি এক তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন। কঙ্গনা বলেন:
“আমি মায়ের ডাক পেয়ে ছুটে এসেছি। গোটা দেশের মঙ্গলের পাশাপাশি আমি বিশেষ করে বাংলার মেয়েদের জন্য প্রার্থনা করেছি। বাংলার মেয়েরা যাতে সঠিক বিচার পায় এবং মা কালী যাতে তাঁদের রক্ষা করেন, এটাই আমার একমাত্র কামনা।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, নাম না করে বাংলার নারী নিরাপত্তা ইস্যুতেই শান দিলেন বিজেপি সাংসদ।
বিজেপির ‘সোশ্যাল’ চমক
কঙ্গনার এই সফরের ছবি বিজেপির অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল থেকেও শেয়ার করা হয়েছে। সেখানে তাঁর উপস্থিতিকে ভক্তি ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন হিসেবে ব্যাখ্যা করা হলেও, লোকাল নেতাদের ভিড় এবং কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা ইঙ্গিত দিচ্ছে অন্য কিছুর। চলতি মাসেই রাজ্যে ভোট, তাই কঙ্গনার মতো ‘ফায়ারব্র্যান্ড’ নেত্রীকে দিয়ে বিজেপি কি বাংলায় কোনো মেগা রোড-শো বা প্রচারের পরিকল্পনা করছে? যদিও গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা করা হয়নি।
মান্ডি থেকে কলকাতা: রাজনীতির সফর
২০২৪ সালে কংগ্রেসের বিক্রমাদিত্য সিংকে হারিয়ে সাংসদ হওয়া কঙ্গনা বরাবরই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কট্টর সমর্থক। বিতর্ক তাঁর ছায়াসঙ্গী হলেও, তাঁর জনমোহিনী ক্ষমতাকে অস্বীকার করার উপায় নেই। এখন দেখার, এই পুজো সেরে তিনি দিল্লির বিমানে ওঠেন, নাকি উত্তরবঙ্গ বা দক্ষিণবঙ্গের কোনো ‘পদ্ম’ প্রার্থীর হয়ে প্রচারের ময়দানে নামেন।
এডিটরস ইনসাইট: কঙ্গনার ‘বাংলার মেয়েদের বিচার’ পাওয়ার মন্তব্যটি নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে বিজেপির অস্ত্র হতে পারে। তারকা প্রচারক হিসেবে কঙ্গনা বাংলার মাটিতে পা রাখলে লড়াই যে আরও জমজমাট হবে, তা বলাই বাহুল্য।