“একটু অক্সিজেনের জন্য ছটফট করছিল বাবা!” আর জি করে বিনাচিকিৎসায় মৃত্যুর অভিযোগে রণক্ষেত্র ইমারজেন্সি

ফের একবার কাঠগড়ায় আর জি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল। এবার জরুরি বিভাগে (Emergency) অক্সিজেন না পেয়ে এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ ঘিরে তুলকালাম কাণ্ড বাধল হাসপাতাল চত্বরে। গত কয়েকদিনে লিফটে আটকে মৃত্যু এবং স্ট্রেচার না পেয়ে রোগী মৃত্যুর ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এই নতুন অভিযোগে রীতিমতো ব্যাকফুটে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

কী ঘটেছিল? সূত্রের খবর, আজ সকালে গুরুতর শ্বাসকষ্ট নিয়ে এক রোগীকে আর জি করের ইমারজেন্সিতে আনা হয়। পরিবারের দাবি, রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘক্ষণ তাঁকে বসিয়ে রাখা হয়। বারবার অক্সিজেনের জন্য অনুরোধ করা হলেও স্টকের অভাব বা পরিকাঠামোগত ত্রুটির অজুহাতে দেরি করা হয় বলে অভিযোগ। শেষমেশ অক্সিজেনের অভাবে চোখের সামনেই রোগী ঢলে পড়েন মৃত্যুর কোলে।

পরিবারের বিস্ফোরক অভিযোগ: মৃতের আত্মীয়দের দাবি, “আমরা বারবার বলেছি শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে, অন্তত অক্সিজেনটা দিন। কিন্তু কেউ কথা শোনেনি। সরকারি হাসপাতালে এসে যদি ন্যূনতম অক্সিজেন না পাওয়া যায়, তবে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়?” এই ঘটনার পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন রোগীর পরিজনরা। তাঁরা কর্তব্যরত চিকিৎসক ও কর্মীদের ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন।

উত্তপ্ত পরিস্থিতি ও পুলিশের হস্তক্ষেপ: রোগী মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে হাসপাতালে মোতায়েন থাকা পুলিশবাহিনীকে হিমশিম খেতে হয়। পরে টালা থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। হাসপাতালের নিরাপত্তা এবং পরিকাঠামো নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

কর্তৃপক্ষের বয়ান: হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অবশ্য অক্সিজেনের অভাবের কথা সরাসরি স্বীকার করেনি। তাঁদের দাবি, রোগী অত্যন্ত সংকটজনক অবস্থায় এসেছিলেন এবং চিকিৎসকরা তাঁদের সাধ্যমতো চেষ্টা করেছেন। প্রকৃত কারণ জানতে বিভাগীয় তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

লিফট বিপর্যয় থেকে স্ট্রেচার বিতর্ক, আর এবার অক্সিজেনের অভিযোগ— একের পর এক ঘটনায় আর জি করের পরিষেবা নিয়ে জনমানসে ক্ষোভ এখন তুঙ্গে।