হরমুজ প্রণালী নিয়ে রক্তচক্ষু ট্রাম্পের, ধ্বংসের মুখে ইরান? ১৬টি ভারতীয় জাহাজ নিয়ে চরম উদ্বেগ!

হরমুজ প্রণালী কি এবার বিশ্বযুদ্ধের সলতে পাকাবে? ইরান এবং আমেরিকার চরম সংঘাতের আবহে এখন এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে। তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে হরমুজ প্রণালী তাদের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে এবং তারা কোনো চাপের কাছে মাথা নত করবে না। অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি আরও ভয়ঙ্কর। হোয়াইট হাউসের সাংবাদিক বৈঠকে তিনি সরাসরি হুমকি দিয়েছেন যে, তেহরান যদি নতিস্বীকার না করে বা হরমুজ না খোলে, তবে এক রাতেই গোটা ইরান ধ্বংস করে দিতে পারে আমেরিকা। ট্রাম্পের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট অনুযায়ী, ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং পরিকাঠামো এখন মার্কিন নিশানায়।
এই প্রবল উত্তেজনার মাঝে সবথেকে বেশি উদ্বেগে রয়েছে ভারত। বর্তমানে হরমুজ প্রণালীতে ভারতের অন্তত ১৬টি বাণিজ্যিক জাহাজ আটকে রয়েছে। জাহাজের কর্মী এবং কয়েক হাজার কোটি টাকার পণ্যের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ভারতীয় নৌবাহিনী ইতিমধ্যেই প্রণালীর বাইরে কড়া পাহারায় রয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর বিদেশমন্ত্রীদের সঙ্গে জরুরি আলোচনা সেরেছেন। ভারতের অবস্থান স্পষ্ট—নয়াদিল্লি কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই এই জট কাটাতে চায়। খোদ প্রধানমন্ত্রী মোদী এর আগে একাধিকবার শান্তির বার্তা দিলেও পরিস্থিতি এখন হাতের বাইরে যাওয়ার জোগাড়।
আজ রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে বাহরাইনের আনা একটি প্রস্তাব নিয়ে ভোটাভুটি হওয়ার কথা। বাহরাইনের দাবি, হরমুজ প্রণালী এক মাসের বেশি সময় ধরে অবরুদ্ধ থাকায় বিশ্ব বাণিজ্য বিপর্যস্ত। তাই সদস্য দেশগুলোকে প্রয়োজনে সামরিক শক্তি প্রয়োগের অনুমতি দেওয়া হোক। তবে সামরিক হস্তক্ষেপের বিষয়ে নিরাপত্তা পরিষদের দেশগুলোর মধ্যে তীব্র মতভেদ রয়েছে। ভারত কি সামরিক শক্তি প্রয়োগের পক্ষে সায় দেবে নাকি নিরপেক্ষ থাকবে? আজ রাতের ভোটাভুটি এবং ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারির পর ইরান কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা বিশ্ব।