ইরানের নয়া সুপ্রিম লিডার কি মৃত? ট্রাম্পের দাবি আর চাঞ্চল্যকর গোয়েন্দা রিপোর্টে তোলপাড় বিশ্ব!

ইরানের রাজনৈতিক আকাশ কি দুর্যোগের ঘন মেঘে ঢাকা পড়েছে? তেহরানের অন্দরমহল থেকে আসা একের পর এক খবর এখন বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দু। প্রশ্ন একটাই—ইরানের নয়া সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনেই কি আদেও বেঁচে রয়েছেন? সম্প্রতি একটি বিস্ফোরক গোয়েন্দা রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, খামেনেই গুরুতর অসুস্থ এবং তিনি বর্তমানে অচেতন বা কোমায় আচ্ছন্ন রয়েছেন। তাঁর শারীরিক অবস্থা এতটাই আশঙ্কাজনক যে যেকোনো মুহূর্তে তাঁর মৃত্যুর খবর আসতে পারে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই গোপন প্রতিবেদনটি ইতিমধ্যেই পারস্য উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া হয়েছে। রিপোর্টে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মোজতবা খামেনেই কোনো হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি বর্তমানে এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, রাষ্ট্রীয় কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তাঁর নেই। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের এই সংকটময় মুহূর্তে তিনি কোনো নির্দেশ দিতে পারছেন না। ফলে ইরানের শাসনব্যবস্থা কার্যত নেতৃত্বহীন হয়ে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে যে খামেনেইয়ের শেষকৃত্যের প্রস্তুতিও গোপনে শুরু হয়ে গিয়েছে। সম্ভাব্য হিসেবে কোম (Qom) শহরে তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। যদিও তেহরান এই বিষয়ে এখনো পর্যন্ত রহস্যজনক নীরবতা বজায় রেখেছে। উল্লেখ্য, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে মোজতবা খামেনেইকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। সুপ্রিম লিডার হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর তাঁর নামাঙ্কিত মাত্র একটি বিবৃতি সামনে এসেছিল, কিন্তু সেখানেও তাঁর সশরীরে উপস্থিতি ছিল না।

ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছিলেন যে খামেনেই বেঁচে নেই। এখন প্রশ্ন উঠছে, তবে কি ট্রাম্পের আশঙ্কাই সত্যি হতে চলেছে? এরই মাঝে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন খোদ ট্রাম্প। মঙ্গলবার রাতেই তিনি ইরানের ওপর প্রবল প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ স্পষ্ট জানিয়েছেন, তেহরান যদি কোনো চুক্তিতে রাজি না হয়, তবে তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতু এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। এমনকি গোটা ইরান ধ্বংসের হুমকিও দিয়েছেন তিনি। খামেনেইয়ের এই শারীরিক সংকটের মুহূর্তে বড়সড় হামলার আশঙ্কায় প্রহর গুনছে বিশ্ববাসী।