পরমাণু শক্তিতে ভারত এবার ‘সুপারপাওয়ার’! কল্পক্কমে ইতিহাস গড়ল দেশি প্রযুক্তির রিঅ্যাক্টর

ভারত আজ এক নতুন নিউক্লিয়ার যুগের ভোরে পা রাখল। তামিলনাড়ুর কল্পক্কমে অবস্থিত ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি প্রোটোটাইপ ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টর (PFBR) সফলভাবে ‘ক্রিটিক্যালিটি’ অর্জন করেছে। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি কেবল ভারতের বিজ্ঞানীদের সাফল্য নয়, বরং শক্তি উৎপাদনে ভারতের আত্মনির্ভর হওয়ার পথে এক বিশাল মাইলফলক।
প্রধানমন্ত্রী মোদীর দরাজ সার্টিফিকেট
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই সাফল্যকে ভারতের পারমাণবিক যাত্রায় একটি ‘ডিফাইনিং স্টেপ’ বা সংজ্ঞায়িত পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন। সোমবার রাতে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ তিনি লেখেন, “আজ ভারত তার নিউক্লিয়ার যাত্রায় এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল। স্বদেশীয়ভাবে ডিজাইন ও নির্মিত কল্পক্কমের পিএফবিআর ক্রিটিক্যালিটি অর্জন করেছে।” প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, এটি ভারতের তিন-স্তরের নিউক্লিয়ার কর্মসূচির দ্বিতীয় স্তরে প্রবেশের সুনিশ্চিত বার্তা।
কেন এই রিঅ্যাক্টর অনন্য?
কল্পক্কমের ইন্দিরা গান্ধী সেন্টার ফর অ্যাটমিক রিসার্চ (IGCAR) ক্যাম্পাসে অবস্থিত এই ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার রিঅ্যাক্টরটি পরিচালনা করছে ভারতীয় ন্যাবিকীয় বিদ্যুৎ নিগম লিমিটেড (ভাভিনি)। এটি একটি ‘সোডিয়াম-কুলড’ রিঅ্যাক্টর। এর সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো, এটি যতটা জ্বালানি (ইউরেনিয়াম ও প্লুটোনিয়াম মিশ্রিত মক্স জ্বালানি) ব্যবহার করে, তার চেয়ে বেশি জ্বালানি উৎপাদন করতে পারে। এই কারণেই একে ‘ব্রিডার’ রিঅ্যাক্টর বলা হয়।
থরিয়াম শক্তির ভবিষ্যৎ
ভারতের কাছে বিশ্বের প্রায় ২৫ শতাংশ থোরিয়াম গচ্ছিত রয়েছে। এই ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টরটি সফলভাবে কাজ শুরু করলে ভারত তার বিশাল থোরিয়াম ভাণ্ডারকে ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের তৃতীয় স্তরে পৌঁছাতে পারবে। এটি ভারতকে কয়েকশ বছরের জন্য জ্বালানি নিরাপত্তা দিতে সক্ষম হবে। ২০০৪ সালে শুরু হওয়া এই দীর্ঘ প্রতীক্ষিত প্রকল্পটি আজ সফল হওয়ায় রাশিয়া ছাড়া ভারতই বিশ্বের একমাত্র দেশ হিসেবে বাণিজ্যিক ফাস্ট ব্রিডার প্রযুক্তিতে নিজেদের দক্ষতা প্রমাণ করল। বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের এই অসামান্য কৃতিত্বে আজ গোটা দেশ গর্বিত।