লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও যুবসাথী আপডেট! কেন আটকে টাকা? সরাসরি জবাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

রাজ্যের লক্ষ লক্ষ মহিলা এবং যুবকদের জন্য স্বস্তির খবর শোনালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাম্প্রতিক এক জনসভা থেকে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, যারা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বা যুবসাথী প্রকল্পের আবেদন করেও এখনও ভাতার টাকা পাননি, তাঁদের ভয়ের কোনো কারণ নেই। প্রত্যেকের আবেদন খতিয়ে দেখার কাজ বা ‘প্রসেসিং’ শুরু হয়ে গিয়েছে এবং শীঘ্রই উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে যাবে।
যুবসাথী নিয়ে বড় বার্তা:
রাজ্য সরকারের ‘যুবসাথী’ প্রকল্প নিয়ে অনেকের মনেই ধোঁয়াশা ছিল। মুখ্যমন্ত্রী এদিন পরিষ্কার করে দেন যে, এটি কোনো দয়া বা ভিক্ষা নয়। তিনি বলেন, “মনে রাখবেন, যুবসাথীতে পকেট খরচার জন্য টাকাটা দেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক পাস করে ছাত্রছাত্রীরা যখন কলেজে যায়, তাদের যাতে ন্যূনতম হাতখরচ টুকু অন্যের কাছে চাইতে না হয়, সেই উদ্দেশ্যেই এই উদ্যোগ।” তিনি আরও মনে করিয়ে দেন যে, এই টাকার সাথে স্কলারশিপের কোনো বিরোধ নেই; পড়ুয়ারা স্কলারশিপের পাশাপাশি এই সুবিধাও পাবেন। এমনকি ভবিষ্যতে এই যুবকদের জীবিকার সংস্থান করার দায়িত্বও সরকার নেবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে নতুন নাম:
দুয়ারে সরকার ক্যাম্প এবং পরবর্তী সময়ে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের জন্য অসংখ্য নতুন আবেদন জমা পড়েছে। অনেক মহিলা অভিযোগ করেছিলেন যে কয়েক মাস কেটে গেলেও তাঁদের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকেনি। মুখ্যমন্ত্রী এই প্রসঙ্গে বলেন, “লক্ষ্মীর ভাণ্ডারেও কিছু নতুন নাম নথিভুক্ত হয়েছে। যারা এখনও পাননি, তাঁরা নিশ্চিত থাকুন, পেয়ে যাবেন। নাম প্রসেস করা হচ্ছে।”
ভাতা ও প্রকল্পের সমাহার:
২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে মা-মাটি-মানুষের সরকার বিধবা ভাতা, বার্ধক্য ভাতা, কন্যাশ্রী, রূপশ্রী থেকে শুরু করে যুবশ্রীর মতো একাধিক জনকল্যাণমুখী প্রকল্প চালু করেছে। বিরোধীরা যখন এই প্রকল্পগুলো নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, তখন মুখ্যমন্ত্রী দৃঢ়ভাবে জানিয়েছেন যে এই পরিষেবাগুলো মানুষের অধিকার এবং তা সচল রাখতে রাজ্য সরকার বদ্ধপরিকর। যারা টেকনিক্যাল কারণে বা ভেরিফিকেশনের জন্য আটকে ছিলেন, এপ্রিল মাসের এই ঘোষণার পর তাঁদের অপেক্ষার অবসান হতে চলেছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।