ভাঙড়ে নওশাদ বনাম সওকত! ‘বোমাবাজদের জায়গা নেই’, ভোটের আগে বিস্ফোরক আইএসএফ বিধায়ক

দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় মানেই উত্তেজনার বারুদ। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রটি এখন গোটা রাজ্যের নজরে। একদিকে গতবারের বিজয়ী আইএসএফ (ISF) বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি, অন্যদিকে তৃণমূলের দাপুটে নেতা সওকত মোল্লা। ২০২১-এ তৃণমূলের গড়ে ফাটল ধরিয়ে যে জয় নওশাদ ছিনিয়ে নিয়েছিলেন, তা কি তিনি ধরে রাখতে পারবেন? নাকি ২০২৪-এর লোকসভা ভোটের লিড বজায় রেখে ফের ভাঙড় দখল করবে ঘাসফুল শিবির? এই প্রশ্নেই এখন সরগরম ভাঙড়ের অলিগলি।

নওশাদের নিশানায় ‘বোমাবাজ’ রাজনীতি:
প্রচারে নেমে প্রতিপক্ষ সওকত মোল্লাকে নাম না করে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন নওশাদ সিদ্দিকি। তিনি বলেন, “ভাঙড়ের মানুষ মনস্থির করে নিয়েছেন। কোনও নটোরিয়াস ক্রিমিনাল বা যারা বোমা বাঁধতে জানে, তাদের এবার জেতাবেন না।” নওশাদের দাবি, ভাঙড়ের সহজ-সরল মানুষকে কিছু ‘রাজনীতির কারবারি’ ব্যবহার করে এলাকাকে অশান্ত করে রেখেছে। তাঁর কথায়, ভাঙড়ের মানুষ হিংসা নয়, শান্তি ও উন্নয়ন চান।

উন্নয়নের ‘ক্রেডিট’ লড়াই:
ভাঙড়ের গত পাঁচ বছরের উন্নয়নের কৃতিত্ব নিয়ে শুরু হয়েছে দড়ি টানাটানি। নওশাদ সিদ্দিকির দাবি, “ভাঙড়ের জলাভূমি রক্ষা থেকে হাসপাতাল—সব উন্নয়নের দাবি আমিই তুলেছিলাম। কাজ আমার জন্যই হয়েছে, অথচ ফিতে কাটছেন সওকত মোল্লা।” নওশাদ আত্মবিশ্বাসী যে, ২০২১-এ যারা তাঁকে ভোট দেননি, উন্নয়নের খাতিরে ২০২৬-এ তাঁরাও খাম প্রতীকেই বোতাম টিপবেন।

কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে আইএসএফ:
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নওশাদের এবারের লড়াই আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন। কারণ, এবার তৃণমূলের বাজি খোদ সওকত মোল্লা। পাশাপাশি হুমায়ুন কবীরের আম জনতা উন্নয়ন পার্টিও ভোট কাটাকুটির খেলায় নামতে পারে। ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে যাদবপুর কেন্দ্রের নিরিখে ভাঙড়ে তৃণমূল বড় লিড পেয়েছিল। সেই পরিসংখ্যান উল্টে দিয়ে নওশাদ কি ফের ‘জায়ান্ট কিলার’ হতে পারবেন? উত্তর দেবে সময়।