স্কুল শিক্ষকদের প্রাইভেট টিউশনে কোপ! হাইকোর্টের কড়া নির্দেশে ঘুম উড়ল ‘গৃহশিক্ষক’ মাস্টারমশাইদের

রাজ্যজুড়ে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা প্রাইভেট কোচিং এবং সরকারি স্কুল শিক্ষকদের ‘টিউশন বাণিজ্য’ নিয়ে এবার চরম উষ্মা প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট। সোমবার এক জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্য সরকার ও মধ্যশিক্ষা পর্ষদের ভূমিকা নিয়ে একগুচ্ছ প্রশ্ন তুলেছে। আদালতের কড়া নির্দেশের পর শহর থেকে শহরতলি—যে সমস্ত সরকারি ও আধা-সরকারি স্কুল শিক্ষক প্রাইভেট টিউশনের সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ।
আদালতের ক্ষোভের কারণ:
২০১৮ সালে রাজ্য সরকার একটি গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সরকারি ও আধা-সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের প্রাইভেট টিউশন করানো নিষিদ্ধ করেছিল। কিন্তু অভিযোগ, গত ৮ বছরেও সেই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে কোনো কড়া পদক্ষেপ নেয়নি শিক্ষা দফতর। ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল প্রাইভেট টিউটর অ্যাসোসিয়েশন’-এর পক্ষ থেকে আদালতে জানানো হয়, তারা জেলাভিত্তিক বেআইনিভাবে টিউশন পড়ানো শিক্ষকদের তালিকা দিলেও প্রশাসন হাত গুটিয়ে বসে আছে। প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, “এতদিন ধরে কেন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি? আপনাদের কাছে কি কোনো তথ্যপ্রমাণ আছে যে আপনারা নির্দেশিকা মেনে ব্যবস্থা নিয়েছেন?”
অভিভাবকদের ওপর মানসিক চাপ:
মামলায় গুরুতর এক অভিযোগ সামনে এসেছে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, স্কুলের শিক্ষকরা ছাত্রছাত্রীদের তাঁদের কাছেই প্রাইভেট পড়তে বাধ্য করছেন। অনেক অভিভাবক না চাইলেও সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে বা নম্বর কম পাওয়ার ভয়ে এই চাপের কাছে নতি স্বীকার করছেন। এর ফলে একদিকে যেমন সাধারণ গৃহশিক্ষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, অন্যদিকে শিক্ষা ব্যবস্থার নৈতিকতাও ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।
৩ সপ্তাহের ডেডলাইন:
পর্ষদের আইনজীবীর কাছে তৎক্ষণাৎ কোনো লিখিত রিপোর্ট না থাকায় আদালত অসন্তোষ প্রকাশ করে। প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল নির্দেশ দিয়েছেন, আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা জমা দিয়ে রাজ্য ও মধ্যশিক্ষা পর্ষদকে জানাতে হবে যে, ২০১৮ সালের নির্দেশিকা এবং হাইকোর্টের আগের নির্দেশ মেনে কতজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বেআইনি কোচিং সেন্টারগুলো অবিলম্বে বন্ধ করার জন্য রাজ্য কী ভাবছে, তাও স্পষ্ট করতে হবে।