নতুন শ্রম আইন ২০২৬: গ্র্যাচুইটির নিয়মে বড় বদল, ১ বছর কাজ করলেই মিলবে টাকা! জানুন সহজ হিসাব

বর্তমানে ভারতের শ্রম বাজারে বড়সড় পরিবর্তনের হাওয়া। কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন লেবার কোড বা শ্রম বিধি কার্যকর হওয়ার পর থেকে কর্মীদের সুযোগ-সুবিধার একাধিক নিয়মে বদল এসেছে। তার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হলো ‘গ্র্যাচুইটি’ (Gratuity)। আগে যেখানে একটানা ৫ বছর কাজ না করলে গ্র্যাচুইটির টাকা পাওয়া যেত না, নতুন নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট মেয়াদের (Fixed Term) কর্মচারীদের ক্ষেত্রে সেই সময়সীমা কমিয়ে মাত্র ১ বছর করা হয়েছে।

কীভাবে করবেন নিজের গ্র্যাচুইটির হিসাব?

আপনার মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে যে রিটায়ারমেন্ট বা চাকরি ছাড়ার সময় আপনার হাতে ঠিক কত টাকা আসবে। এটি বের করার একটি খুব সহজ গাণিতিক ফর্মুলা রয়েছে।

  • সূত্র: (শেষ মাসের বেসিক বেতন + ডিএ) $\times$ ১৫ $\times$ চাকরির সময়কাল $\div$ ২৬

অর্থাৎ, আপনার শেষ পাওয়া বেসিক বেতন ও মহার্ঘ ভাতা (DA)-কে যোগ করুন। সেই অংকটিকে ১৫ দিয়ে গুণ করুন এবং আপনি যত বছর কাজ করেছেন সেই সংখ্যা দিয়ে গুণ করুন। প্রাপ্ত ফলকে ২৬ (মাসের কর্মদিবস) দিয়ে ভাগ করলেই বেরিয়ে আসবে আপনার প্রাপ্য গ্র্যাচুইটির পরিমাণ।

কাজের মেয়াদের বিশেষ নিয়ম:

গ্র্যাচুইটি গণনার ক্ষেত্রে সময়ের একটি বিশেষ গুরুত্ব আছে। যদি আপনার কাজের মেয়াদ ৬ মাসের বেশি হয়, তবে সেটিকে পূর্ণ ১ বছর হিসেবে ধরা হয়। উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনি ৬ বছর ৭ মাস চাকরি করেন, তবে গ্র্যাচুইটির হিসাব হবে ৭ বছর ধরে। কিন্তু যদি মেয়াদ ৬ বছর ৫ মাস হয়, তবে তা ৬ বছর হিসেবেই গণ্য হবে।

একটি বাস্তব উদাহরণ:

ধরা যাক, আপনার বেসিক বেতন ও ডিএ মিলিয়ে মোট ২০,০০০ টাকা। আপনি ৬ বছর ৭ মাস কাজ করেছেন। এই ক্ষেত্রে আপনার গ্র্যাচুইটি হবে:

$(২০,০০০ \times ১৫ \times ৭) \div ২৬ = ৮০,৭৬৯$ টাকা (প্রায়)।

সর্বোচ্চ সীমা ও নতুন আপডেট:

১৯৭২ সালের গ্র্যাচুইটি আইন অনুযায়ী, সাধারণ বেসরকারি কর্মীদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত গ্র্যাচুইটি পাওয়া সম্ভব এবং এই পরিমাণটি আয়কর মুক্ত। তবে ২০২৪ সাল থেকে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের জন্য এই সীমা বাড়িয়ে ২৫ লক্ষ টাকা করা হয়েছে।

নতুন লেবার কোড চালু হওয়ায় এখন থেকে সংস্থাগুলিকে তাদের কর্মীদের সিটিসি (CTC)-র অন্তত ৫০ শতাংশ বেসিক বেতন হিসেবে রাখতে হবে। এর ফলে ভবিষ্যতে কর্মীদের গ্র্যাচুইটির পরিমাণ আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।