কুড়মিদের অধিকার রক্ষায় সরব অভিষেক! কেন্দ্রীয় বঞ্চনা নিয়ে শাহকে কড়া চিঠি নবান্নর

কুড়মি সম্প্রদায়ের উন্নয়ন, ভাষা এবং সাংস্কৃতিক অধিকার নিশ্চিত করতে আবারও সওয়াল করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। জঙ্গলমহলের এই আবেগপ্রবণ ইস্যু নিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, “কুড়মিদের পাশে রাজ্য সরকার সবসময় দাঁড়িয়েছে এবং দাঁড়াবে। তাঁদের উন্নয়ন ও স্বীকৃতির জন্য যা যা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ, তা রাজ্য নিয়েছে।”
অমিত শাহকে চিঠি ও স্বীকৃতির দাবি:
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে একটি বিশেষ চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে কুড়মি সম্প্রদায়ের ভাষা, শিক্ষা এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে বিশেষ মর্যাদা ও স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি কুড়মি নেতা অজিত মাহাতোরা অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। সেই বৈঠকের রেশ টেনেই নবান্নর এই চিঠি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। চিঠিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, কুড়মিদের দীর্ঘদিনের এই দাবিকে কেন্দ্র যেন দ্রুত মান্যতা দেয়।
কেন্দ্রের নীরবতা ও রাজনৈতিক চাপানউতোর:
রাজ্য সরকার বারবার উদ্যোগ নিলেও কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে কুড়মি ভাষাকে এখনও পর্যন্ত বৈধ মর্যাদা দেওয়া হয়নি। এই নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব। অভিষেকের মতে, রাজ্য যতটা আন্তরিকতা দেখিয়েছে, কেন্দ্র সেই পথে হাঁটছে না। কুড়মি সম্প্রদায়ের মধ্যেও এই নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। তাঁদের মতে, রাজ্য পদক্ষেপ করলেও দিল্লির তরফে সদিচ্ছার অভাব স্পষ্ট।
ভোটের অঙ্কে কুড়মি ইস্যু:
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কুড়মিদের এই আন্দোলন শুধুমাত্র সাংস্কৃতিক নয়, বরং আসন্ন নির্বাচনে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘ভোটার ফ্যাক্টর’। জঙ্গলমহলের জেলাগুলিতে কুড়মি ভোট নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করে। তাই একদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সংহতি বার্তা এবং অন্যদিকে কেন্দ্রকে পাঠানো চিঠি— সব মিলিয়ে কুড়মি আবেগকে নিজেদের পালে টানতে মরিয়া ঘাসফুল শিবির। এখন দেখার, নবান্নর এই চিঠির জবাবে অমিত শাহের মন্ত্রক কী পদক্ষেপ নেয়।