বিদায় নিচ্ছে ‘পৃথ্বী’! সেনার হাতে আসছে আরও ঘাতক ও দ্রুতগামী মিসাইল, ড্রাগন-পাক বাহিনীকে রুখতে ডিআরডিও-র মেগা প্ল্যান

ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সূচনা হতে চলেছে। আশির দশকে তৈরি ভারতের গর্ব, প্রথম প্রজন্মের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘পৃথ্বী’ (Prithvi Missile)-কে এবার পাকাপাকিভাবে অবসর দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (DRDO)। দীর্ঘ চার দশক ধরে ভারতীয় সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনীর শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করা এই ক্ষেপণাস্ত্র সিরিজের বদলে আসছে এক অত্যাধুনিক, স্বল্প পাল্লার এবং দ্রুত উৎক্ষেপণযোগ্য ব্যালিস্টিক মিসাইল ব্যবস্থা।

পৃথ্বী ক্ষেপণাস্ত্রের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা ছিল এর ‘তরল জ্বালানি’ ব্যবস্থা। উৎক্ষেপণের ঠিক আগে এতে জ্বালানি ভরতে হতো, যা অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ এবং যুদ্ধের ময়দানে ঝুঁকিপূর্ণ। আধুনিক যুদ্ধের দ্রুতগতির সঙ্গে তাল মেলাতে ডিআরডিও এখন এমন এক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে যা কঠিন জ্বালানি বা উন্নত চালনা ব্যবস্থা (Solid Propulsion) ব্যবহার করবে। ফলে এটি যে কোনো সময় মুহূর্তের মধ্যে উৎক্ষেপণ করা সম্ভব হবে।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, আগে মনে করা হয়েছিল ‘প্রলয়’ ক্ষেপণাস্ত্রই হবে পৃথ্বীর উত্তরসূরি। কিন্তু ডিআরডিও এখন সম্পূর্ণ নতুন একটি প্ল্যাটফর্মের ওপর কাজ করছে যা ৫০০ থেকে ১০০০ কেজি পর্যন্ত ঘাতক ওয়ারহেড বহন করতে সক্ষম হবে। এর বিশেষত্ব হলো এটি উড্ডয়নকালেই নিজের গতিপথ পরিবর্তন করে শত্রুপক্ষের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমকে ধোঁকা দিতে পারবে। পুরনো পরিকাঠামোর সঙ্গেই সামঞ্জস্য রেখে তৈরি করায় এই নতুন ক্ষেপণাস্ত্রটিকে সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা অনেক সহজ হবে, যা ভারতের কৌশলগত প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেবে।