‘বাবা’র অন্ধকার সাম্রাজ্যের পর্দাফাঁস! এসআইটি-র জালে অশোক খারাটের ছেলে, ফাঁস হল কোটি কোটি টাকার রহস্য

আধ্যাত্মিকতার আড়ালে নারীদের যৌন শোষণ এবং ভক্তদের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎকারী স্বঘোষিত ‘বাবা’ অশোক খারাটের সাম্রাজ্য এখন খাসের তাসের মতো ভেঙে পড়ছে। বিশেষ তদন্তকারী দলের (SIT) সাঁড়াশি চাপের মুখে অবশেষে আত্মসমর্পণ করেছেন খারাটের ছেলে। আর হেফাজতে আসতেই নিজের বাবার অন্ধকার জগতের এমন সব তথ্য তিনি ফাঁস করেছেন, যা শুনে খোদ দুঁদে পুলিশ কর্তারাও থমকে গিয়েছেন।
তদন্তকারী আধিকারিকদের কাছে খারাট-পুত্র স্বীকার করেছেন যে, তাঁদের বাড়িতে নিয়মিত বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা আসত। তিনি বলেন, “বাড়িতে বস্তা বস্তা টাকা আনা হতো। সেই টাকা ঠিক কোথা থেকে আসত, তা নিয়ে আমার স্পষ্ট ধারণা না থাকলেও, সমস্ত আর্থিক লেনদেনের রাশ ছিল বাবার হাতে। তাঁর নির্দেশ ছাড়া একটি টাকাও নড়াচড়া করত না।” এই বয়ান থেকে স্পষ্ট যে, ধর্মের আড়ালে একটি সুসংগঠিত অবৈধ অর্থপাচার চক্র চালাতেন অশোক খারাট।
তদন্তের নিশানায় ‘শিবনিকা সংস্থান’:
ছেলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ এখন একটি বড়সড় হাওলা চক্রের যোগসূত্র খুঁজে পাচ্ছে। এসআইটি ইতিমধ্যেই ‘ঈশান্যেশ্বর মন্দির’-এর শিবনিকা সংস্থানের তিন পরিচালককে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করেছে। প্রাথমিক তদন্তে এই প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম ধরা পড়েছে। পুলিশের সন্দেহ, ভক্তদের থেকে লুঠ করা কালো টাকা সাদা করতে এই সংস্থানটিকে ‘শেল কোম্পানি’ হিসেবে ব্যবহার করা হতো।
ভয় দেখিয়ে শোষণ ও জালিয়াতি:
অশোক খারাটের অপরাধের ধরণ ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ও নির্মম। তিনি সাধারণ মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস এবং দুর্বলতাকে হাতিয়ার করতেন। ভক্তদের মনে ‘ঈশ্বরের অভিশাপ’ বা ‘পরিবারের চরম বিপদ’-এর ভয় ঢুকিয়ে বিশেষ পুজো বা তুকতাকের নামে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিতেন তিনি। এই মানসিক চাপের সুযোগ নিয়েই অসহায় নারী ভক্তদের দিনের পর দিন যৌন শোষণ করতেন এই ভণ্ড বাবা। বর্তমানে নাসিক পুলিশ খারাটের সমস্ত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, বেনামি সম্পত্তি এবং বিনিয়োগের নথি খতিয়ে দেখছে। মনে করা হচ্ছে, খুব শীঘ্রই এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত আরও কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম প্রকাশ্যে আসবে।