মালদহ কাণ্ডে রুদ্ধশ্বাস অ্যাকশন! বাগডোগরা থেকে গ্রেপ্তার মূল উস্কানিদাতা মোফাক্কারুল

গত বুধবার থেকে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে মালদহ। মুসলিম ভোটারদের নাম বাতিলের (D-Voter) অভিযোগে শুরু হওয়া আন্দোলন কার্যত বিচার ব্যবস্থার ওপর হামলায় রূপ নিয়েছে। এই ঘটনার মূল উস্কানিদাতা হিসেবে অভিযুক্ত আইনজীবী মোফাক্কারুল ইসলামকে শুক্রবার বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। গ্রেপ্তারের ঠিক আগেই একটি ফেসবুক লাইভে মোফাক্কারুল দাবি করেন, তিনি কোনো আন্দোলন করেননি, আলিপুরদুয়ার যাওয়ার পথে কেবল বক্তব্য রেখেছিলেন। যদিও পুলিশের দাবি, তাঁর উস্কানিতেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
মালদহ কাণ্ডে কড়া অবস্থান নিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই ঘটনাকে ‘বিচার ব্যবস্থার ওপর নির্লজ্জ হামলা’ বলে অভিহিত করেছে। আদালতের নির্দেশে ইতিমধ্যেই তদন্তের ভার নিয়েছে এনআইএ (NIA)। শুক্রবার সকালেই ডিআইজি-র নেতৃত্বে এনআইএ-র একটি বিশেষ দল কলকাতা থেকে মোথাবাড়ি ও কালিয়াচকের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। আগামী ৬ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টে এই ঘটনার প্রাথমিক রিপোর্ট পেশ করতে হবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে। ইতিমধ্যেই এই মামলায় ৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছেন আইএসএফ প্রার্থী শাহজাহান আলি কাদরী।
অন্যদিকে, এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই মালদহে পৌঁছেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈষ্ণবনগরের সভা থেকে তিনি সাফ জানান, “মানুষের ক্ষোভ থাকতেই পারে, কিন্তু জাজেদের আটকে রাখা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।” তিনি এই ঘটনার জন্য কংগ্রেসকে দায়ী করে বলেন, “যাঁরা এই কাজ করেছেন, তাঁদের একজনকে যেন ছাড়া না হয়।” রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের সুপ্রিম কোর্টের শোকজের মুখে পড়তে হওয়ায় অস্বস্তি বাড়লেও, মমতা স্পষ্ট করেছেন যে তাঁর দল কোনো দাঙ্গা বা অশান্তির পক্ষে নেই। বর্তমানে থমথমে মালদহে মোতায়েন রয়েছে বিশাল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।