প্যাকেটবন্দি আদা-রসুন বাটা কি আসলে ‘ধীর বিষ’? হায়দরাবাদের কারখানায় হাড়হিম করা দৃশ্য!

রান্নার তাড়া থাকলে এখন অনেকেই শিল-নোড়া বা মিক্সারের ঝামেলা এড়াতে বাজার থেকে প্যাকেটবন্দি আদা-রসুন বাটা কিনে আনেন। কিন্তু চটজলদি রান্নার এই অভ্যাস আপনার শরীরে অজান্তেই বিষ ঢেলে দিচ্ছে না তো? সম্প্রতি হায়দরাবাদ পুলিশের টাস্ক ফোর্সের একটি অভিযানে যে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে, তাতে কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের। শহরের এক বেসরকারি মশলা প্রস্তুতকারী সংস্থার কারখানায় হানা দিয়ে পুলিশ যা দেখেছে, তা রীতিমতো শিউরে ওঠার মতো।
হায়দরাবাদ পুলিশ সামাজিক মাধ্যমে সেই অভিযানের ছবি পোস্ট করেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে এই বাটা মশলা। মেঝেতে নোংরা জল জমে আছে, তার মধ্যেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে আদা ও রসুন। যে মেশিনগুলোতে মশলা বাটা হচ্ছে, সেগুলোতে পরিচ্ছন্নতার লেশমাত্র নেই। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো, এই বাটা মশলার স্থায়িত্ব বাড়াতে এবং ওজন বাড়াতে মেশানো হচ্ছিল অত্যন্ত নিম্নমানের ও ক্ষতিকর অ্যাসিটিক অ্যাসিড। খাদ্য সুরক্ষার (FSSAI) কোনো নিয়মই সেখানে মানা হয়নি।
চিকিৎসকদের মতে, এই ধরণের রাসায়নিক মিশ্রিত মশলা নিয়মিত খেলে ফুসফুসের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। এছাড়া হজমের সমস্যা, পেটে সংক্রমণ এবং ডায়েরিয়ার মতো অসুখ অবধারিত। পুলিশ ওই কারখানার মালিককে গ্রেপ্তার করেছে এবং প্রায় ২২ লক্ষ টাকার সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ৪০৩২ কেজি ভেজাল মেশানো বাটা মশলা এবং ৬২১০ কেজি অত্যন্ত নিম্নমানের পচা কাঁচামাল। এই ঘটনার পর প্রশ্ন উঠছে— আমরা কি তবে প্যাকেটজাত খাবারের নামে শুধুই বিষ খাচ্ছি? নিরাপদ থাকতে ঘরোয়া পদ্ধতিতে বাটা মশলা ব্যবহারেরই পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।