“প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে দেব ইরানকে!” ট্রাম্পের হুঙ্কারে কাঁপছে মধ্যপ্রাচ্য, ঘনিয়ে এল চূড়ান্ত যুদ্ধের মেঘ

ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া রক্তক্ষয়ী সংঘাত এক চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে বলে দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবারের পর বৃহস্পতিবারও হোয়াইট হাউসের ‘ক্রস হল’ থেকে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি স্পষ্ট জানান, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-র লক্ষ্য প্রায় অর্জিত। মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রশংসা করে ট্রাম্প বলেন, “আমাদের সেনাবাহিনী এমন এক জয় এনে দিয়েছে, যা বিশ্ব আগে খুব কমই দেখেছে।”

‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-র সাফল্য নিয়ে ট্রাম্পের দাবি:
গত ৩২ দিন ধরে চলা এই অভিযানে ইরানের সামরিক মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি প্রেসিডেন্টের। ট্রাম্পের মতে:

ইরানের নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনী সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে।

ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণের ক্ষমতা এবং রকেট লঞ্চারগুলো ধ্বংস করা হয়েছে।

ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রায় সকলেই খতম হয়েছেন।

নতুন যারা ক্ষমতায় এসেছে, তারা আগের তুলনায় অনেক কম উগ্রপন্থী।

চরম হুঁশিয়ারি ও পরবর্তী পদক্ষেপ:
ট্রাম্প সাফ জানিয়েছেন, আগামী ২-৩ সপ্তাহ ইরানের ওপর আরও কঠোর আঘাত হানবে আমেরিকা। তাঁর কথায়, “আমরা ইরানকে কার্যত প্রস্তর যুগে (Stone Age) ফিরিয়ে নিয়ে যাব।” তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, যদি ইরান কোনো চুক্তিতে না আসে, তবে এবার তাদের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলিতে বিধ্বংসী হামলা চালানো হবে। ট্রাম্প বলেন, “এখনও পর্যন্ত আমরা ওদের তেলক্ষেত্রে হাত দিইনি, কিন্তু প্রয়োজনে তা-ও করতে পারি। আমাদের থামানোর সাধ্য কারও নেই।”

মিত্রদের ভূমিকা ও হরমুজ প্রণালী:
এই অভিযানে ইজরায়েল, সৌদি আরব, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর মতো আঞ্চলিক মিত্রদের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ট্রাম্প। তেল আমদানিকারক দেশগুলোর প্রতি তাঁর আহ্বান, তারা যেন সরাসরি হরমুজ প্রণালীতে গিয়ে তার দখল নেয় এবং নিজেদের সম্পদ রক্ষা করে। ট্রাম্পের এই কড়া মনোভাব এবং ‘প্রস্তর যুগে’ পাঠানোর হুমকি মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি করেছে।