সিইও দফতরে ‘বস্তা ভর্তি’ ফর্ম ৬! বিতর্কের ঝড়ে মুখ খুললেন মনোজ আগরওয়াল, কী জানালেন তিনি?

পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে ভোটার তালিকায় নাম তোলাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দফতরে ব্যাগ বা বস্তা ভর্তি ‘ফর্ম ৬’ জমা দেওয়ার যে অভিযোগ তৃণমূল কংগ্রেস তুলেছিল, মঙ্গলবার তার কড়া জবাব দিলেন সিইও মনোজ আগরওয়াল। সাফ জানালেন, এটি একটি সরকারি অফিস এবং এখানে নিয়ম মেনেই সব কাজ হয়।
অভিযোগের সূত্রপাত সোমবার সন্ধ্যায়, যখন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন যে, বিজেপি কর্মীরা বস্তা ভর্তি ফর্ম ৬ নিয়ে সিইও অফিসে ঢুকেছেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, বিহার বা উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দাদের বাংলার ভোটার তালিকায় ঢোকানোর চক্রান্ত চলছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার সিইও মনোজ আগরওয়াল সংবাদমাধ্যমের সামনে বলেন, “এটি একটি সরকারি দফতর, এখানে একটি রিসিভিং সেকশন আছে। যে কেউ চাইলে যত খুশি নথি জমা দিতে পারেন। সেখানে ১ লক্ষ নথি আছে নাকি ১টি, তা অফিসের প্রধান হিসেবে আমার দেখার কথা নয়।”
খানিকটা বিরক্ত হয়েই তিনি প্রশ্ন তোলেন, “আমার কাজ কি সারা রাজ্যে সুষ্ঠুভাবে ভোট পরিচালনা করা, নাকি কে কী নথি নিয়ে অফিসে ঢুকছে তা তদারকি করা?” তবে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে জানিয়ে তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, সিইও দফতরের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হবে। যদি কোনো নিয়মভঙ্গ হয়ে থাকে, তবে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও স্পষ্ট করে দেন যে, মঙ্গলবার থেকে জমা পড়া কোনো নতুন ফর্ম ৬ আসন্ন ভোটে বিবেচ্য হবে না।
মঙ্গলবার এই ইস্যুকে কেন্দ্র করেই সিইও অফিসের সামনে তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে রণক্ষেত্র পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জও করে। অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই বিষয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি লিখে অভিযোগ জানিয়েছেন। তবে মনোজ আগরওয়াল স্পষ্ট করেছেন, ভোটার তালিকায় নাম যোগ বা বাদ দেওয়ার কোনো বিশেষ সফটওয়্যার তাঁর দফতরে নেই এবং যা হচ্ছে তা নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই যাচাই করা হবে।