ইরান অভিযান কি শেষের পথে? ট্রাম্পের ‘দুই-তিন সপ্তাহ’ ও চীন-পাক শান্তি প্রস্তাবের নতুন সমীকরণ

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে কি তবে শান্তির সুবাতাস বইতে শুরু করেছে? মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য এবং চীন-পাকিস্তানের যৌথ শান্তি প্রস্তাব সেই সম্ভাবনাই উসকে দিচ্ছে। মঙ্গলবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হতে পারে।
ট্রাম্পের ঘোষণা: লক্ষ্য অর্জিত, এবার ফেরার পালা
ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইসরায়েলের সাথে সমন্বয় করে ইরানে যে হামলা চালানো হয়েছিল, তার মূল লক্ষ্য ছিল তেহরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা ধ্বংস করা। মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, সেই লক্ষ্য অর্জনের পথে তারা প্রায় শেষ পর্যায়ে।
-
আকাশসীমায় আধিপত্য: ট্রাম্পের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী এখন ইরানের আকাশসীমা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করছে।
-
শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তন: বহু শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতা নিহতের ফলে তেহরানের বর্তমান নেতৃত্ব ‘আগের চেয়ে কম উগ্র’ ও ‘যুক্তিসঙ্গত’ হয়ে উঠেছে বলে মনে করেন তিনি।
-
চুক্তির সম্ভাবনা: ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান যুদ্ধ থামাতে চুক্তির জন্য ‘অনুনয়-বিনয়’ করছে। তবে চুক্তি হোক বা না হোক, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র সরে আসবে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
মিত্রদের কড়া সমালোচনা ও জ্বালানির বাজার
বক্তব্যে ট্রাম্প মার্কিন মিত্রদের প্রতি ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। বিশেষ করে যুক্তরাজ্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালী থেকে তেল সংগ্রহের নিরাপত্তা এখন দেশগুলোকে নিজেদেরই নিশ্চিত করতে হবে; যুক্তরাষ্ট্র আর পাহারা দেবে না। যুদ্ধ শেষ হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমে আসবে বলেও তিনি আশাপ্রকাশ করেন।
চীন ও পাকিস্তানের ‘পাঁচ দফা’ শান্তি পরিকল্পনা
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফেরাতে বেইজিংয়ে বৈঠকে বসেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। বৈঠক শেষে তারা পাঁচ দফার একটি যৌথ শান্তি প্রস্তাব ঘোষণা করেন।
-
মূল লক্ষ্য: অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি এবং অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালীসহ সকল নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
-
কূটনীতির পথ: বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সংলাপই এই সংকট নিরসনের একমাত্র পথ। ইরানের তেলের বড় ক্রেতা হিসেবে চীন এই শান্তি প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করতে চায়।
মাঠের চিত্র: বৈরুতে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত
শান্তি আলোচনার জল্পনার মাঝেই লেবাননের পরিস্থিতি উত্তপ্ত। মঙ্গলবার বৈরুতের দক্ষিণ উপকণ্ঠে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় অন্তত দুইজন নিহত হয়েছেন। আইডিএফ (IDF) জানিয়েছে, হিজবুল্লাহর একজন কমান্ডার ও শীর্ষ নেতাকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। বৈরুতের জনাহ এলাকায় একটি চলন্ত গাড়ি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। এছাড়া লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, দেশের দক্ষিণাঞ্চলে পৃথক হামলায় আরও সাতজন প্রাণ হারিয়েছেন।
একনজরে বর্তমান প্রেক্ষাপট (২০২৬)
| বিষয় | বর্তমান অবস্থা |
| মার্কিন অবস্থান | ২-৩ সপ্তাহের মধ্যে অভিযান শেষের পরিকল্পনা। |
| ইরানের দাবি | সংঘাত আর হবে না—এমন নিশ্চয়তা পেলে যুদ্ধ থামানো সম্ভব। |
| চীনের ভূমিকা | পাকিস্তান ও চীন যৌথভাবে ৫ দফা শান্তি প্রস্তাব পেশ করেছে। |
| জ্বালানি প্রভাব | হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় তেলের দামে অস্থিরতা। |
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ফক্স নিউজকে জানিয়েছেন, যুদ্ধ বন্ধের বিষয়টি এখন অনেকটাই ‘দৃশ্যমান’। তবে তেহরান ট্রাম্পের দাবি করা ‘অনুনয়-বিনয়’-এর বিষয়টি অস্বীকার করেছে। এখন দেখার বিষয়, আগামী তিন সপ্তাহ বিশ্ব রাজনীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্রে কী বদল আনে।