ইতালি ট্র্যাজেডি: ৪৮ দলের বিশ্বকাপেও নেই ৪ বারের বিশ্বজয়ীরা! টানা ৩ বার বিদায়ে লজ্জার ইতিহাস

ফুটবল বিশ্বের অন্যতম মহাশক্তি ইতালির পতন অব্যাহত। ২০১৮ এবং ২০২২-এর পর এবার ২০২৬। টানা তৃতীয়বার বিশ্বকাপের মূল পর্বে যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হলো গ্ল্যাডিয়েটরদের দেশ। জেনিকার বিলিনো পোলজে স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার রাতে এক রুদ্ধশ্বাস প্লে-অফ ফাইনালে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে পেনাল্টি শ্যুট-আউটে হেরে বিশ্বকাপের স্বপ্ন বিসর্জন দিল গিয়ানলুইগি দোন্নারুমা ব্রিগেড। ফুটবল ইতিহাসে প্রথম প্রাক্তন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দল হিসেবে টানা তিনটি বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করতে না পারার এক চরম লজ্জার রেকর্ড গড়ল ইতালি।

ম্যাচের ঘটনাক্রম:
এদিন ম্যাচে ফেভারিট হিসেবেই শুরু করেছিল গাত্তুসোর প্রশিক্ষণাধীন ইতালি। ম্যাচের ১৫ মিনিটের মাথায় মোইস কিনের দুর্দান্ত গোলে এগিয়ে যায় আজ্জুরিরা। সমর্থকরা যখন ১২ বছর পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে ফেরার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন, ঠিক তখনই ছন্দপতন। প্রথমার্ধেই বিপক্ষ ফুটবলারকে ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন ইতালির রক্ষণভাগের স্তম্ভ আলেজান্দ্রো বাস্তোনি। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার পর থেকেই ইতালির ওপর চাপ বাড়াতে থাকে বসনিয়া। গোলকিপার দোন্নারুমা বেশ কিছু সেভ করে ইতালিকে বাঁচিয়ে রাখলেও ৭৯ মিনিটে আর শেষরক্ষা হয়নি। আমার দেদিচের ক্রস থেকে এডিন জেকোর হেড দোন্নারুমা রুখে দিলেও ফিরতি বলে গোল করে বসনিয়াকে ১-১ সমতায় ফেরান হ্যারিস তাবাকোভিচ।

পেনাল্টি শ্যুট-আউটে বিপর্যয়:
নির্ধারিত ৯০ মিনিট এবং অতিরিক্ত সময়ের খেলা ১-১ অমীমাংসিত থাকার পর ম্যাচ গড়ায় ভাগ্যনির্ধারক টাইব্রেকারে। সেখানে স্নায়ুর চাপে কার্যত ধসে পড়ে ইতালি। স্যান্দ্রো তোনালি গোল করলেও ইতালির বাকি দুই ফুটবলার স্পটকিক থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন। অন্যদিকে, নিজেদের ঘরের মাঠে চার-চারটি শটেই গোল করে ৪-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে বসনিয়া। ২০১৪ সালের পর ফের ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’-এ জায়গা করে নিল তারা। অন্যদিকে, গ্রুপ-বি’তে কানাডা, সুইজারল্যান্ড ও কাতারের সঙ্গী হওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করল ইতালি।

কোচ গাত্তুসোর হতাশা:
ম্যাচ শেষে বিধ্বস্ত কোচ জেন্নারো গাত্তুসো নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ধোঁয়াশা বজায় রেখেছেন। তিনি বলেন, “এটি আমাদের জন্য এক বিরাট ধাক্কা। এই ফলাফল আমাদের প্রাপ্য ছিল না। আমরা মাঠে অনেক বেশি লড়াই করেছিলাম। এখন আমার কোচিং ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবার সময় নয়, এখন সময় জাতীয় দলের এই বিপর্যয় নিয়ে ভাবার।” ৪৮ দলের বর্ধিত ফরম্যাটের বিশ্বকাপেও ইতালির এই অনুপস্থিতি ফুটবল প্রেমীদের কাছে এক বিশাল শূন্যতা হয়ে থাকবে।