তৃণমূলের প্রচারের তুঙ্গে ‘অনলাইন লুডো’! সাপের মুখে মোদী-শাহ, মই হিসেবে দিদির প্রকল্প

বাংলার ভোট ময়দানে এবার ঢুকে পড়ল ছোটবেলার সেই অতি পরিচিত খেলা ‘সাপ-লুডো’। তবে এবার আর তা কেবল বিনোদনের জন্য নয়, বরং রাজনৈতিক লড়াইয়ের অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে তৃণমূল কংগ্রেস। অনলাইন লুডো গেমের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে এক অভিনব প্রচার কৌশল নিয়েছে ঘাসফুল শিবির। এই ভার্চুয়াল লুডো বোর্ডে সাপের মুখে রাখা হয়েছে বিজেপি নেতাদের ছবি, আর মই বা সিঁড়ি হিসেবে দেখানো হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনমুখী প্রকল্পগুলিকে।
কেমন এই ‘রাজনৈতিক’ লুডো?
তৃণমূলের এই নয়া অনলাইন লুডো বোর্ডে প্রতিটি চালের সঙ্গে মিশে আছে রাজনীতি। বোর্ডে যে ঘরগুলিতে সাপের মুখ রয়েছে, সেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ থেকে শুরু করে রাজ্যের বিজেপি নেতাদের মুখের অবয়ব ব্যবহার করা হয়েছে। অর্থাৎ, কোনো খেলোয়াড়ের ঘুঁটি সেই ঘরে পড়লেই তা নিচে নেমে যাবে, যা মূলত বিজেপির ‘বিপত্তি’ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। অন্যদিকে, বোর্ডে ওঠার জন্য যে ‘মই’ বা সিঁড়ি রয়েছে, সেগুলিকে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’, ‘সবুজ সাথী’ বা ‘স্বাস্থ্য সাথী’-র মতো সরকারি প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বার্তা দেওয়া হচ্ছে যে, রাজ্যের এই প্রকল্পগুলি মানুষকে উন্নতির শিখরে পৌঁছে দিচ্ছে।
ডিজিটাল প্রচারে জোর:
বর্তমানে মানুষ অনলাইন গেমের প্রতি বেশি আসক্ত, তাই ভোটারদের বিশেষ করে যুব প্রজন্মকে আকর্ষণ করতে এই অনলাইন লুডোকেই বেছে নিয়েছে তৃণমূল। বোর্ডের ১০০ নম্বর ঘর বা ‘জয় বাংলা’র ঘরে পৌঁছাতে গেলে খেলোয়াড়দের পেরোতে হবে ‘দু’মুখো সাপ’— যার একপাশে মোদী এবং অন্যপাশে অমিত শাহের ছবি। তৃণমূলের দাবি, এটি নিছকই একটি ডিজিটাল প্রচার মাধ্যম যা মানুষের কাছে সহজে পৌঁছে যাবে।
ভোটের ময়দানে ব্যস্ততা:
আজ, বুধবার যখন এই ডিজিটাল প্রচার তুঙ্গে, তখন মাঠের লড়াইয়েও নেমেছে ঘাসফুল শিবির। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ দক্ষিণবঙ্গের নানুর, বড়ঞা ও নবগ্রামে তিনটি হাই-ভোল্টেজ জনসভা করবেন। অন্যদিকে, দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় উত্তরবঙ্গের শীতলকুচি, রায়গঞ্জ ও ফালাকাটায় প্রচার চালাবেন। পাল্টা আক্রমণে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী আজ ভবানীপুরে মেগা প্রচার করতে নামছেন। সব মিলিয়ে অনলাইন থেকে অফলাইন— ভোটের উত্তাপ এখন চরমে।