মধ্যবিত্তের পকেটে টান! ৯০০ জরুরি ওষুধের দাম একধাক্কায় বাড়ছে, জানুন তালিকায় কী কী আছে

সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন বাজেটে ফের বড়সড় কোপ পড়তে চলেছে। এবার সরাসরি প্রভাব পড়তে চলেছে স্বাস্থ্য পরিষেবায়। কেন্দ্রীয় ওষুধ মূল্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘ন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যাল প্রাইসিং অথরিটি’ (NPPA) দেশজুড়ে প্রায় ৯০০টি জরুরি ও জীবনদায়ী ওষুধের দাম বাড়ানোর সবুজ সংকেত দিয়েছে। ফলে খুচরো বাজারে ওষুধের দাম ০.৬৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে চলেছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই নতুন দাম কার্যকর হবে বলে জানা গিয়েছে।

কেন বাড়ছে দাম?
প্রতি বছরই পাইকারি মূল্য সূচক বা হোলসেল প্রাইস ইনডেক্স (WPI)-এর পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ওষুধের সর্বোচ্চ খুচরো মূল্য (MRP) সংশোধন করা হয়। ২০২৫ সালের পাইকারি মূল্য সূচক গত বছরের তুলনায় ০.৬৪৯৫৬% বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারের ড্রাগ প্রাইস কন্ট্রোল অর্ডার (DPCO) ২০১৩-এর নিয়ম অনুযায়ী, এই সূচক যতটা বাড়ে, ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলিও ঠিক ততটাই দাম বাড়ানোর সুযোগ পায়। সেই নিয়ম মেনেই ন্যাশনাল লিস্ট অফ এসেনশিয়াল মেডিসিনস (NLEM)-এর তালিকায় থাকা ওষুধগুলোর দাম বাড়ছে।

কোন কোন ওষুধের দাম বাড়ছে?
এই মূল্যবৃদ্ধির তালিকায় রয়েছে প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় একাধিক ওষুধ। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

অ্যান্টিবায়োটিক ও পেইনকিলার: সাধারণ জ্বর-জারি বা সংক্রমণের জন্য ব্যবহৃত ওষুধ।

ক্রনিক রোগের ওষুধ: ব্লাড প্রেসার (রক্তচাপ) এবং ডায়াবেটিস বা মধুমেহ রোগের জীবনদায়ী ওষুধ।

গ্যাসের ওষুধ: সাধারণ অ্যান্টাসিড জাতীয় সিরাপ বা ক্যাপসুল।

অন্যান্য: হাঁপানি, সিজোফ্রেনিয়া বা মানসিক রোগের ওষুধ, এমনকি এইডস-এর চিকিৎসার ওষুধের দামও বাড়তে চলেছে।

অতীতের পরিসংখ্যান:
২০২৩ সালে ওষুধের দামে রেকর্ড ১২ শতাংশ বৃদ্ধি দেখা গিয়েছিল, যা সাধারণ মানুষকে চরম সংকটে ফেলেছিল। তবে ২০২৪ সালে মূল্যবৃদ্ধির হার মাত্র ০.০৫ শতাংশ হওয়ায় তেমন প্রভাব পড়েনি। কিন্তু ২০২৫-এ এসে ফের প্রায় ১ শতাংশের কাছাকাছি দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় মধ্যবিত্তের চিকিৎসার খরচ অনেকটাই বেড়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। ৭৪৮টিরও বেশি ফর্মুলেশন এবং বিভিন্ন প্যাকেজিং মিলিয়ে মোট ৯০০টি ওষুধের ওপর এই বর্ধিত মূল্য প্রযোজ্য হবে।