“ভোট না দিলে কেটে যাবে নাম”-ভয়ে বাংলায় ফিরছেন পরিযায়ী শ্রমিকেরা, রেল টিকিটের হাহাকার

সামনেই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন। আর এই মহারণে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে মরিয়া ভিনরাজ্যে থাকা লক্ষ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিক। দিল্লি থেকে মুম্বই— দেশের কোণায় কোণায় ছড়িয়ে থাকা বাঙালিদের মধ্যে এখন একটাই আতঙ্ক, ‘ভোট না দিলে কি নাম কাটা যাবে?’ বিশেষ করে SIR (Special Investigation Report)-এর পর ভোটার তালিকায় নাম বাদ পড়ার আশঙ্কায় ঘুম উড়েছে তাঁদের।

টিকিটের হাহাকার: রেলের বিশেষ ট্রেন কি যথেষ্ট?

মুম্বইয়ের জহুরি বাজার (Zaveri Bazar) থেকে শুরু করে জুয়েলারি শিল্পের হাজার হাজার শ্রমিক এখন ঘরমুখো। কিন্তু ট্রেন টিকিটের আকাল চরমে। পশ্চিমবঙ্গ স্বর্ণ শিল্প কল্যাণ সঙ্ঘের সাধারণ সম্পাদক কালীদাস সিনহা রায় জানান, “আমরা রেলমন্ত্রীর কাছে অতিরিক্ত ট্রেনের দাবি জানিয়েছি। সারা দেশের জন্য মাত্র ২৪টি এবং মুম্বই থেকে মাত্র ৭টি স্পেশাল ট্রেন দেওয়া হয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় নগণ্য।” টিকিটের অভাবে অনেকেই এখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাসে করে বাংলায় ফেরার পরিকল্পনা করছেন।

SIR আতঙ্ক: কেন এই তাড়াহুড়ো?

মুম্বইয়ের শ্রমিক নয়ন পাল বা দাসপুরের সুজয় ডালারা জানাচ্ছেন, SIR-এর পর অনেকেরই নাম তালিকায় ওঠেনি। তাঁদের বিশ্বাস, এবার ভোট না দিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নামও তালিকা থেকে মুছে যেতে পারে।

  • জুয়েলারি শ্রমিকদের দাবি: ডাবল টাকা দিয়েও টিকিট মিলছে না।

  • নতুন ভোটারদের উৎসাহ: প্রথমবার ভোট দেবেন এমন তরুণ প্রজন্মের মধ্যেও বাড়ি ফেরার জেদ তুঙ্গে।

দিল্লির বস্তিতে ‘নাম বাদ’ হওয়ার ভয়

দক্ষিণ দিল্লির বাঙালি অধ্যুষিত বস্তিগুলোর চিত্র আরও ভয়াবহ। সেখানকার বাসিন্দা মিন্টু বা মাজিতুল্লাদের অভিযোগ, অনেকের পরিবারের অর্ধেক সদস্যের নাম আছে, বাকিদের নেই।

  • ৫ থেকে ৬ হাজার বাঙালি ওই এলাকায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

  • প্রথম দফার ভোট ২৩ এপ্রিল, কিন্তু ট্রেনের টিকিট নেই।

  • বেসরকারি বাস মালিকরাও জ্বালানি সংকটের অজুহাতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে চাইছেন না।

আসাবুদ্দিন শেখের মতো অনেক ভোটারেরই আক্ষেপ, “আমার নাম এসেছে, কিন্তু দুই বোনের নাম আসেনি।” এই প্রশাসনিক জটিলতা আর যাতায়াতের সমস্যাকে সঙ্গী করেই এখন অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে নেমেছেন ভারতের প্রান্তিক বাঙালি শ্রমিকরা।