খুলে নেওয়া হলো লাইফ সাপোর্ট! ১৩ বছরের যন্ত্রণার অবসান ঘটিয়ে চিরনিদ্রার পথে হরিশ রানা

দীর্ঘ ১৩ বছরের এক যন্ত্রণাদায়ক লড়াইয়ের অবসান হতে চলেছে। দিল্লির এইমস (AIIMS) হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারের করিডোরে এখন শ্মশানের নীরবতা। সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ের পর ৩২ বছর বয়সী হরিশ রানার শরীর থেকে খুলে নেওয়া হয়েছে ভেন্টিলেটর ও ফিডিং টিউব। চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায় যাকে বলা হয় ‘প্যাসিভ ইউথানেশিয়া’ বা পরোক্ষ ইচ্ছামৃত্যু, সেই প্রক্রিয়াই এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে।
২০১১ সালে বহুতল থেকে পড়ে গিয়ে হরিশের জীবন থমকে গিয়েছিল। মেরুদণ্ড ও মাথায় গুরুতর চোটের কারণে তিনি চলে যান ‘পার্মানেন্ট ভেজিটেটিভ স্টেট’ (PVS)-এ। অর্থাৎ, তিনি বেঁচে থাকলেও তাঁর চেতনা ছিল শূন্য। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিলে তিলে ছেলেকে শেষ হয়ে যেতে দেখে চোখের জল ফেলেছেন তাঁর বাবা-মা। সমস্ত সঞ্চয় শেষ করার পর অসহায় পরিবার শেষমেশ আদালতের দ্বারস্থ হয় তাঁর ‘মর্যাদাপূর্ণ মৃত্যু’র অধিকার চেয়ে।
বর্তমানে হরিশকে আইসিইউ থেকে সরিয়ে একটি সাধারণ বেডে রাখা হয়েছে। চিকিৎসকদের একটি বিশেষ দল তাঁর ব্যথামুক্তি ও মস্তিষ্ক শান্ত রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ দিচ্ছেন। ভারতের আইনি ইতিহাসে এই ঘটনা অরুণা শানবাগের মামলার স্মৃতিকে নতুন করে উস্কে দিয়েছে। হাসপাতালের স্তব্ধতা যেন সাক্ষী দিচ্ছে এক অসম লড়াইয়ের ক্লান্তিকর সমাপ্তির। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা, কখন নিভে যাবে জীবনের শেষ প্রদীপটুকু।