দ্বিগুণ দামে মিলছে সিলিন্ডার! পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের আবহে বাংলায় কি শুরু হলো গ্যাসের কালোবাজারি?

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের আঁচ কি এবার বাঙালির হেঁশেলে? পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়ার আশঙ্কার মাঝেই রাজ্যে দেখা দিয়েছে রান্নার গ্যাসের তীব্র সংকট। কিন্তু এই সংকট কি আদেও বাস্তব, নাকি স্রেফ মুনাফা লোটার কৌশল? এই প্রশ্ন তুলেই এবার বোমা ফাটালেন হাওড়ার কোণা এক্সপ্রেসওয়ের ধারের এক জনপ্রিয় রেস্তোরাঁ মালিক। তাঁর দাবি, বাজারে গ্যাসের কোনো অভাব নেই, বরং এক শ্রেণির ডিলার ও রাজনৈতিক মদতপুষ্ট অসাধু চক্র মিলে তৈরি করেছে ‘কৃত্রিম সংকট’।

মজুতদারির নয়া ছক: নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, করোনার সময় অসাধু ব্যবসায়ীরা যেভাবে চাল-ডাল মজুত করে পকেট গরম করেছিল, এখন ঠিক সেই একই ফর্মুলা কাজ করছে এলপিজি (LPG) সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে। তাঁর অভিযোগ, ডিলাররা তাঁদের ঘনিষ্ঠ লোকেদের বাড়িতে বেআইনিভাবে ১০-১২টি করে সিলিন্ডার মজুত করে রাখছেন। সাধারণ গ্রাহক গ্যাস চাইলে বলা হচ্ছে ‘স্টক নেই’। কিন্তু কেউ দ্বিগুণ দাম দিতে রাজি হলেই ম্যাজিকের মতো সেইসব বাড়ি থেকে সিলিন্ডার পৌঁছে যাচ্ছে নির্দিষ্ট ঠিকানায়।

রাজনৈতিক যোগসূত্র ও প্রাণভয়: কেন এই কালোবাজারি বন্ধ হচ্ছে না? এর উত্তরে ওই রেস্তোরাঁ মালিকের দাবি আরও মারাত্মক। তিনি বলছেন, “রাজনৈতিক দলের বড় নেতাদের আশীর্বাদ ছাড়া এই মাপের কালোবাজারি অসম্ভব। কার মদতে এসব হচ্ছে সবাই জানে। আমি মুখ খুললে কাল আমার রেস্তোরাঁ ভাঙচুর হবে, তাই নাম বলছি না।” তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, পুলিশ-প্রশাসন যদি দ্রুত হস্তক্ষেপ না করে, তবে আগামী দিনে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠবে এবং অনেক রেস্তোরাঁ ঝাঁপ বন্ধ করতে বাধ্য হবে।

ইতিমধ্যেই বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের অভাবে অনেক ছোট হোটেলের উনুন নিভতে বসেছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, যুদ্ধ চলছে সুদূর পশ্চিমে, তাহলে বাংলার গুদামে গ্যাসের হাহাকার কেন? প্রশাসন কি সত্যিই এই ‘কৃত্রিম সংকট’ রুখতে কড়া পদক্ষেপ নেবে?