ভোটের মুখে বিপাকে পড়ার ভয়? মমতা-গড়ে লড়াইয়ের আগে কেন আদালতের দ্বারস্থ হলেন শুভেন্দু অধিকারী?

২০২৬-এর হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনের আগে আইনি ময়দানে বড় চাল দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের বিভিন্ন থানায় তাঁর বিরুদ্ধে ঠিক কতগুলো এফআইআর বা ফৌজদারি মামলা রয়েছে, তার বিস্তারিত তালিকা চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন তিনি। বৃহস্পতিবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে এই মামলা করার অনুমতি মিলেছে। আগামী ২৪ মার্চ এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা।

কেন এই আইনি পদক্ষেপ? নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় প্রতিটি প্রার্থীকে হলফনামায় (Affidavit) নিজের বিরুদ্ধে থাকা সমস্ত ফৌজদারি মামলার তথ্য দিতে হয়। শুভেন্দুর আইনজীবীদের দাবি, রাজ্য সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে অনেক মামলার তথ্য গোপন করে রাখে, যা পরে মনোনয়ন বাতিলের কারণ হতে পারে। তাই কোনও ঝুঁকি না নিয়ে আদালতের মাধ্যমেই সমস্ত তথ্যের আইনি নিশ্চয়তা চাইলেন নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী।

শুভেন্দুর জোড়া লড়াই: এবারের নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী তাঁর নিজের কেন্দ্র নন্দীগ্রামের পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র ভবানীপুর থেকেও প্রার্থী হয়েছেন। দুই কেন্দ্রেই প্রচার শুরু করে দিয়েছেন তিনি। শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে রাজ্যজুড়ে প্রচুর ‘মিথ্যা’ মামলায় তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে। সেই সব মামলার সঠিক খতিয়ান পেতেই এই আইনি লড়াই।

বিজেপি শিবিরে একই কৌশল: উল্লেখ্য, শুভেন্দু অধিকারীর আগে পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী অশোক দিন্দাও একই দাবিতে হাইকোর্টের কড়া নেড়েছেন। পরপর দুই হেভিওয়েট বিজেপি নেতার এই পদক্ষেপ রাজ্য রাজনীতিতে নতুন জল্পনা তৈরি করেছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তৃণমূল যাতে আইনি মারপ্যাঁচে মনোনয়ন বাতিল করতে না পারে, তার জন্যই এই আগাম সতর্কতা।