হারিয়ে যাওয়া সানাই-সারেঙ্গির ফিউশন! বসন্তের সন্ধ্যায় শহরে বিরল উচ্চমানের মিউজিক ফেস্টিভ্যাল

সঙ্গীতের শহর কলকাতায় এবার সুর-তাল-ছন্দের অভিনব মহোৎসব। বসন্তের সন্ধ্যায় এক অনন্য উচ্চমানের ফিউশন শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের আসর বসতে চলেছে শহর তিলোত্তমায়। ভারতীয় বিদ্যা ভবন এবং পণ্ডিত শঙ্কর ঘোষ তবলা ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত হতে চলেছে তিন দিনব্যাপী ‘নাদ’ (Naad) ফেস্টিভ্যাল। আগামী ২০ থেকে ২২ মার্চ কলকাতার জিডি বিড়লা সভাঘরে বসবে এই চাঁদের হাট, যার পুরো তত্ত্বাবধানে থাকছেন বিশ্বখ্যাত তবলা মায়েস্ত্রো বিক্রম ঘোষ।
নতুন ও পুরনোর মেলবন্ধন: এবারের ‘নাদ’-এর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিকতার ফিউশন। বিক্রম ঘোষের ভাবনায় প্রথম দিনেই থাকছে ‘ফেডিং ট্র্যাডিশন’, যেখানে সানাই বা সারেঙ্গির মতো হারিয়ে যাওয়া বাদ্যযন্ত্রের সুর নতুন আঙ্গিকে পরিবেশন করা হবে। অন্যদিকে ‘এমার্জিং সাউন্ড’-এ দেখা যাবে আধুনিক প্রযুক্তির জাদু। মহেশ রাঘবন আইপ্যাডে ক্ল্যাসিক্যাল মিউজিক বাজাবেন, আর ইন্দ্রায়ুধ মজুমদার ও অভিষেক মল্লিক শোনাবেন ইলেকট্রিক সরোদ ও ইলেকট্রিক সেতারের সুর। এছাড়াও চলচ্চিত্রে রাগসঙ্গীতের ব্যবহার নিয়ে থাকবে বিশেষ পর্ব ‘রাগ টু সেলুলয়েড’।
নৃত্য ও যন্ত্রসঙ্গীতের মহোৎসব: উৎসবের দ্বিতীয় দিনে পণ্ডিত কুশল দাসের সেতার লহরীর পাশাপাশি থাকবে ‘ডান্স অফ ইন্ডিয়া’, যেখানে প্রীতি প্যাটেল ও জয়া শীল ঘোষের মতো প্রখ্যাত শিল্পীরা মণিপুরী, ভারতনাট্যম ও ছৌ নাচের ডালি নিয়ে হাজির হবেন। শেষ দিনে থাকবে পণ্ডিত তরুণ ভট্টাচার্যের সন্তুর ও বিক্রম ঘোষের তবলার অনবদ্য যুগলবন্দি। সব মিলিয়ে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের আভিজাত্য এবং ফিউশনের নতুন স্বাদ পেতে মুখিয়ে রয়েছে তিলোত্তমা।