WB Election 2026: ভোট ঘোষণা হতেই বাংলায় প্রশাসনিক সার্জারি! মুখ্যসচিব-স্বরাষ্ট্রসচিব অপসারিত, কুণালের নিশানায় কি বিজেপি?

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অলিন্দ। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনিক স্তরে বড়সড় রদবদল ঘটানো হয়েছে। অপসারণ করা হয়েছে বাংলার প্রথম মহিলা মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী ও স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশ প্রসাদ মিনাকে। আর এই ঘটনা ঘিরেই এবার রণংদেহি মেজাজে ধরা দিলেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করে বিজেপি পিছন থেকে কলকাঠি নাড়ছে বলে বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন তিনি।

কুণাল ঘোষের দাবি, নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপ আসলে বিজেপির ‘প্যানিক রিঅ্যাকশন’। তিনি সাফ জানিয়েছেন, প্রশাসনিক কর্তাদের রদবদল করে তৃণমূলের জয় আটকানো যাবে না। তাঁর কথায়, “বিজেপি রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে গিয়েছে। জনগণের সমর্থন নেই বুঝে এখন আমলাদের সরিয়ে নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। কিন্তু বাংলার মানুষ ঠিক করে নিয়েছেন ২০২৬-এ ফের মমতাদিই ফিরছেন।”

উল্লেখ্য, গত ১৫ মার্চ নির্বাচন কমিশন চার রাজ্য ও এক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বাংলার মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিবকে বদলির নির্দেশ দেয়। ১৯৯৩ ব্যাচের আইএএস অফিসার দুষ্মন্ত নারিয়ালাকে নতুন মুখ্যসচিব এবং সংঘমিত্রা ঘোষকে নতুন স্বরাষ্ট্রসচিব হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। প্রশাসনিক মহলের একাংশ মনে করছে, অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোট করানোর লক্ষ্যেই এই রদবদল। তবে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবে নিচ্ছে না।

কুণাল ঘোষ গেরুয়া শিবিরকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে বলেন, “নির্বাচন কমিশনকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে বিজেপি। বাংলার প্রশাসনিক কাঠামোকে দুর্বল করার ষড়যন্ত্র চলছে। আমাদের অফিসারদের ওপর আমাদের পূর্ণ আস্থা আছে। বিজেপি যে কতটা অসহায় তা তাদের এই আচরণেই স্পষ্ট।” ভোট ঘোষণার মাত্র কয়েক দিনের মাথায় এই প্রশাসনিক ডামাডোল যে নির্বাচনের উত্তাপ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য।