“তেলের দাম হবে ১০০ ডলার!”- পেট্রোল-ডিজেলের সাথে বাড়তে পারে চাল-ডালের দাম

ভাবা হয়েছিল আমেরিকার মতো পরাশক্তির সামনে দ্রুত হাঁটু গেঁড়ে বসবে ইরান। কিন্তু যুদ্ধের ষষ্ঠ দিনে ছবিটা সম্পূর্ণ উল্টো। ইজরায়েল ও আমেরিকার সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন-মিসাইল হামলা চালিয়ে তেহরান বুঝিয়ে দিয়েছে, তারা লম্বা লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত। আর এই যুদ্ধের আঁচ এবার সরাসরি এসে লাগছে ভারতের সাধারণ মানুষের পকেটে।
হরমুজ প্রণালী বন্ধ: বিশ্বজুড়ে তেলের হাহাকার? ইরান তাদের ট্রাম্প কার্ডটি খেলে দিয়েছে— বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট অশোধিত তেলের ২০ শতাংশই এই সরু পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই পথ বন্ধ হওয়ার অর্থ হলো বিশ্ববাজারে তেলের আকাল।
-
দাম আকাশছোঁয়া: মাত্র ৭ দিনে ডব্লিউটিআই (WTI) ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ৬৫ ডলার থেকে বেড়ে ৭৭.৭৫ ডলারে পৌঁছেছে।
-
আশঙ্কা: বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধ না থামলে এই দাম খুব দ্রুত ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাবে।
ভারতের ওপর প্রভাব: চাল-ডাল কি মহার্ঘ হবে? ভারত জ্বালানি তেলের জন্য আমদানির ওপর নির্ভরশীল। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে দেশীয় বাজারে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়বে। জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন খরচ বেড়ে যায়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে চাল, ডাল, মাছ, মাংস ও সবজির ওপর। ফলে মধ্যবিত্তের হেঁশেলে টান পড়া এখন সময়ের অপেক্ষা।
রেকর্ড পতন ভারতীয় মুদ্রায় যুদ্ধের প্রভাবে ভারতীয় রুপি এখন খাদের কিনারায়। ইতিহাসের সব রেকর্ড ভেঙে ১ ডলারের বিপরীতে টাকার দাম নেমেছে ৯২.৩১-এ। ডলারের তুলনায় টাকার এমন পতন ভারতের আমদানি বাণিজ্যের জন্য বড় দুঃসংবাদ।
বিপদের বন্ধু কি রাশিয়া? তবে এত অন্ধকারের মাঝেও আশার আলো দেখাচ্ছে ক্রেমলিন। ভারতের জ্বালানি সংকট মেটাতে সমুদ্রপথে ৯.৫ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল নিয়ে রওনা দিয়েছে রাশিয়ার জাহাজ। নয়াদিল্লির সবুজ সংকেত পেলেই সেই তেল ভারতে পৌঁছে যাবে।
-
ভারতের বর্তমান স্টক: ভারতের হাতে বর্তমানে ১৭-১৮ দিনের অশোধিত তেল এবং ২০-২১ দিনের পেট্রোল-ডিজেলের মজুত রয়েছে। এলএনজি মজুত আছে ১০-১২ দিনের।