শেষ হলো এক অধ্যায়! বিধানসভায় মুকুল রায়ের মরদেহ, প্রিয় দাদাকে শেষ শ্রদ্ধা জানালেন অভিষেক

বঙ্গ রাজনীতির ইতিহাসে একটি মহীরুহের পতন হলো। প্রয়াত হলেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ এবং তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মুকুল রায়। সোমবার দুপুরে তাঁর মরদেহ বিধানসভায় নিয়ে আসা হলে সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রিয় ‘মুকুল দা’-কে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত হন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ও।
দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত সমস্যা এবং শারীরিক অসুস্থতার পর রবিবার গভীর রাতে বাইপাস সংলগ্ন একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ৭২ বছর বয়সী এই জননেতা। তাঁর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ তাঁর আদি বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনার কাঁচরাপাড়া। এদিন সেখানে এক বিশাল শোক মিছিলের আয়োজন করা হয়, যেখানে সামিল হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে।
অভিষেক সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, “মুকুল রায়ের প্রয়াণে বঙ্গ রাজনীতির ইতিহাসের একটা অধ্যায় শেষ হলো। তৃণমূলের সাংগঠনিক বিস্তারে তাঁর ভূমিকা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।” অন্যদিকে, মুকুল রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ফুল পাঠিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও। বিধানসভায় শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ছিলেন শিখা চট্টোপাধ্যায়, অশোক দিন্দা, পবন সিং-এর মতো বিজেপি বিধায়করাও। দলমত নির্বিশেষে সকলের শ্রদ্ধা প্রমাণ করে দিল বঙ্গ রাজনীতিতে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা কতটা গভীর ছিল।
১৯৯৮ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের জন্মলগ্ন থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গী ছিলেন মুকুল রায়। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় বুথ স্তর পর্যন্ত সংগঠন সাজানোর কারিগর ছিলেন তিনিই। দলের ‘সেকেন্ড ইন কম্যান্ড’ হিসেবে দিল্লিতে তৃণমূলের মুখ হয়ে উঠেছিলেন। ২০০৬ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত সামলেছেন সাংসদ পদ, হয়েছিলেন রেলমন্ত্রীও। রাজনীতির মারপ্যাঁচে তাঁর দক্ষতা তাঁকে ‘চাণক্য’ উপাধি দিয়েছিল। তাঁর মৃত্যুতে বাংলার রাজনীতির এক বর্ণময় ও অভিজ্ঞ অভিভাবকের অভাব অনুভূত হচ্ছে।