ট্রাম্প বনাম মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট! আইনি লড়াইয়ের জাঁতাকলে আটকে গেল ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি

ভারত ও আমেরিকার মধ্যে বহুল প্রতীক্ষিত অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে ঘনীভূত হচ্ছে অনিশ্চয়তা। সোমবার ওয়াশিংটনে দুই দেশের মধ্যে আইনি দিকগুলি চূড়ান্ত করার কথা থাকলেও, রবিবারের শেষ মুহূর্তের সিদ্ধান্তে সেই বৈঠক স্থগিত হয়ে গেল। মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের একটি ঐতিহাসিক রায় এবং তার পাল্টায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেপরোয়া মনোভাবই এই টানাপোড়েনের মূলে বলে মনে করা হচ্ছে।

সুপ্রিম ধাক্কা ও ট্রাম্পের পাল্টা চাল: গত শুক্রবার মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ‘পারস্পরিক শুল্ক’ (Reciprocal Tariff) নীতিকে ‘বেআইনি’ ঘোষণা করেছে। আদালতের মতে, ১৯৭৭ সালের জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন লঙ্ঘন করে কংগ্রেসকে এড়িয়ে এই শুল্ক চাপানো হয়েছে। কিন্তু আদালতের এই রায়কে সরাসরি ‘অ্যান্টি-আমেরিকান’ বলে তোপ দেগেছেন ট্রাম্প। কেবল তোপ দাগাই নয়, তিনি আগে ঘোষিত ১০ শতাংশ শুল্ক বাড়িয়ে রাতারাতি ১৫ শতাংশ করার কথা ঘোষণা করেছেন।

ভারতের ওপর প্রভাব: বাণিজ্য মন্ত্রক সূত্রে খবর, বাণিজ্য সচিব দর্পণ জৈনের নেতৃত্বে ভারতীয় প্রতিনিধি দলের ২৩ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন শুল্ক নীতি এবং আইনি জটিলতা খতিয়ে দেখতে আপাতত সেই সফর বাতিল করা হয়েছে। গত বছর রাশিয়া থেকে তেল কেনার অজুহাতে ভারতের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। যদিও ফেব্রুয়ারি মাসে তা কমিয়ে ১৮ শতাংশে আনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর গোটা সমীকরণ ওলটপালট হয়ে গিয়েছে।

ভবিষ্যৎ কী? দুই দেশের প্রতিনিধিরা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন। ট্রাম্প যদি আদালতের নির্দেশ অমান্য করে একতরফা শুল্ক কার্যকর করেন, তবে ভারতের মতো দেশগুলির জন্য আমেরিকার বাজার অত্যন্ত মহার্ঘ হয়ে উঠবে। আপাতত দুই পক্ষ আলোচনা করে পরবর্তী বৈঠকের দিন স্থির করবে বলে জানানো হয়েছে।