ফের ট্যারিফ বাড়ালেন ট্রাম্প, এবার ভারতকে কত শতাংশ হারে শুল্ক দিতে হবে?

বিশ্বজুড়ে মার্কিন আধিপত্য বজায় রাখা এবং বাণিজ্যিক যুদ্ধে একচ্ছত্র ক্ষমতা কায়েম করতে একের পর এক আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ নিচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর এই রণকৌশলের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হলো— বিভিন্ন দেশের ওপর চড়া হারে বাণিজ্যিক শুল্ক (Trade Tariff) আরোপ করা। আর ট্রাম্পের এই নয়া চালের মারপ্যাঁচে এবার সরাসরি প্রভাব পড়তে চলেছে ভারতের ওপর।

২৪ ঘণ্টার ম্যাজিক ও শুল্কের গোলকধাঁধা ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পর যেখানে শুল্কের হার ৫০ শতাংশ থেকে কমে ১৮ শতাংশে নেমে এসেছিল, সেখানে নতুন করে নাটকীয় মোড় নিল পরিস্থিতি। মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের পুরনো শুল্ক নীতিকে অবৈধ ঘোষণা করতেই পাল্টা মেজাজে অবতীর্ণ হন প্রেসিডেন্ট। প্রাথমিক ভাবে ১০ শতাংশ হারে ‘সাময়িক শুল্ক’ ঘোষণা করলেও মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তা বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ট্রাম্প।

ভারতের জন্য অঙ্কটা ঠিক কত? হিসেব বলছে, আইন সংশোধনের পর ভারতের ওপর মার্কিন শুল্ক মাত্র ৩.৫ শতাংশে নেমে আসার কথা ছিল। কিন্তু আদালতের রায়ের পরেই ট্রাম্প তড়িঘড়ি ‘১২২ নম্বর ধারা’ (Section 122) প্রয়োগ করেন। দুই দফায় মোট ১৫ শতাংশ শুল্ক চাপানোর ফলে ভারতীয় পণ্যের ওপর কার্যকর শুল্কের হার এখন দাঁড়িয়েছে ১৮.৫ শতাংশে। উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুতেও এই হার ছিল ১৮ শতাংশ। অর্থাৎ, ভারতীয় ব্যবসায়ীদের জন্য আমেরিকার বাজার এখন আগের চেয়েও কিছুটা মহার্ঘ হতে চলেছে।

অস্থায়ী স্বস্তি না কি দীর্ঘমেয়াদি চাপ? ট্রাম্পের এই বিশেষ ক্ষমতা বা ‘১২২ নম্বর ধারা’ ব্যবহারের একটি আইনি সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এই বর্ধিত শুল্ক কেবল ১৫০ দিনের জন্য বৈধ। এরপর যদি ট্রাম্প প্রশাসন এই চড়া হার বজায় রাখতে চায়, তবে মার্কিন কংগ্রেসে বিশেষ আইন পাস করাতে হবে। এখন দেখার, এই ১৫০ দিন পর ট্রাম্প ভারতের জন্য কোনো বিশেষ ছাড়ের ঘোষণা করেন, না কি বাণিজ্যের এই স্নায়ুযুদ্ধ আরও দীর্ঘস্থায়ী হয়।