আরজি কর দুর্নীতিতে সিবিআই-এর ‘মাস্টারস্ট্রোক’! চার্জশিটের ২৯ নম্বর পাতায় লুকিয়ে কোন বড় সংকেত?

আরজি কর কাণ্ডের তদন্ত কি তবে শেষের পথে? না, বরং সিবিআই-এর সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট ঘিরে নতুন করে দানা বাঁধছে রহস্য। মঙ্গলবার প্রকাশিত এই চার্জশিটে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে যে, মৌখিকভাবে তদন্ত শেষের কথা ভাসিয়ে দেওয়া হলেও প্রয়োজনে আগামী দিনেও চলতে পারে এই হাই-প্রোফাইল দুর্নীতির তদন্ত প্রক্রিয়া।

সিবিআই আদালতে যে সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট পেশ করেছে, তার ২৯ নম্বর পাতাটি এখন আলোচনার কেন্দ্রে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে সংস্থা। সেই রিপোর্টে যদি কোনো ‘পজিটিভ’ বা গুরুত্বপূর্ণ ক্লু মেলে, তবে তদন্তের চাকা আবার সজোরে ঘুরতে শুরু করবে। অর্থাৎ, এখনই এই মামলায় দাঁড়ি টানতে নারাজ কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা।

বিচার প্রক্রিয়ায় নয়া মোড় আরজি করের দুর্নীতি মামলায় এবার সরাসরি বিচার প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে চলেছেন প্রাক্তন ডেপুটি সুপার (নন-মেডিক্যাল) আখতার আলি। আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি আদালত তাঁর বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করবে। একই দিনে শশীকান্ত চন্দকের বিরুদ্ধেও চার্জ গঠন করে বিচার শুরু হবে। দুর্নীতির শেকড় কতদূর বিস্তৃত, তা এই বিচারের মাধ্যমেই জনসমক্ষে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।

নির্যাতিতার বাবা-মায়ের বিস্ফোরক দাবি এদিকে, তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের মামলায় শিয়ালদহ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন নির্যাতিতার বাবা-মা। তাঁদের অভিযোগের তির এবার কলকাতা পুলিশের এসিআই অনুপ দত্তের দিকে। তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা। নির্যাতিতার পরিবারের দাবি, এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে এক গভীর ও বৃহত্তর ষড়যন্ত্র, যার অন্যতম অংশীদার খোদ পুলিশ প্রশাসনের একাংশ।

ঘটনার সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের সন্দেহজনক আচরণ নিয়েও মঙ্গলবার আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। সিবিআই-এর তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে আগেই অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন নির্যাতিতার বাবা-মা। এবার আইনি লড়াইয়ে পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকদের নাম জড়ানোয় গোটা রাজ্যে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।