২০০৮ থেকে বকেয়া মেটানোর ডেডলাইন দিল আদালত! ডিএ নিয়ে কী লুকোচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী?

এক দশকের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান। পঞ্চম পে কমিশনের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (DA) মামলায় ঐতিহাসিক জয় পেলেন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় কারল এবং বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্রের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বকেয়া সমস্ত ডিএ রাজ্য সরকারকে মিটিয়ে দিতে হবে। শুধু তাই নয়, এই বিপুল পরিমাণ অর্থ মেটানোর জন্য রাজ্যকে নির্দিষ্ট সময়সীমা বা ডেডলাইনও বেঁধে দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
আদালতের এই কড়া নির্দেশের পর স্বাভাবিকভাবেই খুশির হাওয়া কর্মী মহলে, কিন্তু নবান্নের অন্দরে অস্বস্তি কাটছে না। মঙ্গলবার এক সাংবাদিক বৈঠকে বকেয়া ডিএ মেটানো নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রশ্ন করা হলে তিনি কৌশলী অবস্থান নেন। বিষয়টি ‘বিচারাধীন’ বলে মন্তব্য এড়িয়ে গিয়ে তিনি বলেন, “আমি এটা নিয়ে কোনও উত্তর দেব না। যা বলার বিধানসভায় বলে দিয়েছি। বিচারাধীন বিষয় নিয়ে আমি কোনও মন্তব্যে যাব না।” উল্লেখ্য, এর আগে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন যে, আদালতের রায়ের কপি রিভিউ করতে মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর এই এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতাকে তীব্র আক্রমণ করেছেন আন্দোলনকারী ডিএ কর্মীদের সংগঠন ‘সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ’। মঞ্চের অন্যতম আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ কটাক্ষ করে বলেন, “আমাদের দুর্ভাগ্য যে এমন একজন মানুষ আমাদের মুখ্যমন্ত্রী। কোন মামলার রায় হয়ে গেছে আর কোনটা বিচারাধীন, সেই সাধারণ পার্থক্যটুকুও কি উনি বুঝতে পারছেন না?” আইনি লড়াইয়ে জয় এলেও, পকেটে টাকা কবে ঢুকবে—এখন সেই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে লক্ষ লক্ষ রাজ্য সরকারি কর্মচারীর মনে।