অংকের ভুলে ভরা বিরোধীদের চিঠি! ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা কি স্রেফ নাটক? সংসদ উত্তাল ৯ মার্চ

সংসদীয় রাজনীতিতে এক বিরল সৌজন্যের সাক্ষী থাকল লোকসভা। স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে বিরোধীদের আনা অনাস্থা প্রস্তাবটি প্রথম চোটেই খারিজ হয়ে যেতে পারত স্রেফ কারিগরি ত্রুটির কারণে। কিন্তু স্পিকার সেই পথে না হেঁটে ‘বিশাল হৃদয়’ দেখিয়ে বিরোধীদের নোটিশ সংশোধনের সুযোগ দিয়েছেন। এর মাধ্যমে তিনি কেবল নিয়ম রক্ষা করলেন না, বরং একটি বলিষ্ঠ রাজনৈতিক বার্তাও দিলেন।
নোটিশে কী মারাত্মক ভুল ছিল? লোকসভা সচিবালয় সূত্রে খবর, মঙ্গলবার ১১৮ জন সাংসদের স্বাক্ষর করা যে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছিল, তাতে তথ্যের পাহাড়প্রমাণ ভুল ছিল। নোটিশটিতে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির ঘটনাবলী চারবার উল্লেখ করা হয়েছে, যা সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী কার্যত অসম্ভব। বর্তমান অধিবেশনের বাইরে পুরনো বিষয় টেনে আনলে সেই প্রস্তাব এমনিতেই বাতিল হওয়ার যোগ্য। তা সত্ত্বেও স্পিকার ওম বিড়লা সচিবালয়কে নির্দেশ দেন, যাতে বিরোধীদের এই ভুল সংশোধন করতে বলা হয় এবং নিয়ম মেনে প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
বিরোধীদের অভিযোগ ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈয়ের নেতৃত্বে সপা ও ডিএমকে-র মতো দলগুলো স্পিকারের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে এই প্রস্তাব এনেছে। তাদের দাবি, সংবিধানের ৯৪(গ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্পিকার নিরপেক্ষ নন। তবে বিরোধী জোটের ফাটলও এখানে স্পষ্ট। ১১৮ জন সাংসদ সই করলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস এই প্রক্রিয়া থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছে, যা বিরোধীদের রণকৌশলকে দুর্বল করে দিয়েছে।
আগামী ৯ মার্চ চূড়ান্ত ফয়সালা? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংখ্যাতত্ত্বের বিচারে এই প্রস্তাব পাস হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। এটি মূলত বিরোধীদের একটি প্রতীকী লড়াই। বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হচ্ছে ৯ মার্চ। ওই দিনই সংশোধিত নোটিশটি নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এখন দেখার বিষয়, স্পিকারের এই ‘সৌজন্যের’ পর বিরোধীরা অধিবেশনে কী ভূমিকা নেয়।