১০০ দিনের রহস্যভেদ! স্বামীর খুনি খোদ স্ত্রী, পুলিশের চোখে ধুলো দিতে ছক কষা হয়েছিল ভয়ানক ড্রামা!

ছত্তিশগড়ের জশপুরে গত বছরের অক্টোবর মাসে তূরীটোংরি জঙ্গলে পাওয়া একটি অর্ধদগ্ধ লাশের রহস্য প্রায় ১০০ দিন পর উন্মোচিত হলো। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের যে কাহিনী সামনে এসেছে, তা কোনো অপরাধমূলক সিনেমার চিত্রনাট্যের চেয়ে কম নয়। পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে, মৃত ব্যক্তির স্ত্রীই এই খুনের মাস্টারমাইন্ড, যাকে সাহায্য করেছে তার নিজের দুই নাবালিকা কন্যা ও প্রতিবেশীর এক ছেলে।

গর্তের মধ্যে অর্ধদগ্ধ লাশ ও পুলিশের চ্যালেঞ্জ ১৮ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে তূরীটোংরি জঙ্গলের একটি গর্ত থেকে এক অজ্ঞাতপরিচয় যুবকের ঝলসানো দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মুখমণ্ডল ও শরীরের অধিকাংশ অংশ পুড়ে যাওয়ায় নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। তদন্তে নেমে পুলিশ বিএসএন-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে। প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত জানা যায়, মৃত ব্যক্তি দীপাবলির সময় থেকে নিখোঁজ ছিলেন।

ভাইয়ের সন্দেহে খুলল জট তদন্তের মোড় ঘোরে যখন নিহতের ভাই পুলিশকে জানায় যে, তার ভাই নিখোঁজ হওয়া সত্ত্বেও তার বউ বা পরিবারের কেউ কোনো হেলদোল দেখাচ্ছে না। পুলিশ জানতে পারে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিনের বিবাদ ছিল এবং স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে আলাদা থাকছিলেন। খুনের দিন স্বামী শেষবার স্ত্রীর ঘরেই গিয়েছিলেন।

নাবালিকাদের সহযোগিতায় চরম নৃশংসতা জেরার মুখে স্ত্রী স্বীকার করেন যে, পারিবারিক কলহের জেরে তিনি রাগের মাথায় স্বামীকে কুপিয়ে খুন করেন। এরপর নিহতের দুই নাবালিকা কন্যা এবং এক প্রতিবেশী কিশোরের সাহায্যে লাশটি জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে পেট্রোল দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন যাতে পুলিশ পরিচয় জানতে না পারে। পুলিশ খুনে ব্যবহৃত অস্ত্র (গাইতি), পেট্রোলের জার এবং টর্চ উদ্ধার করেছে। বর্তমানে অভিযুক্ত স্ত্রীকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং নাবালকদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলছে।