বাড়িতে শিবলিঙ্গ রাখা কি অমঙ্গলের ইঙ্গিত? শাস্ত্র ও বাস্তুর এই কঠিন নিয়ম না জানলে হতে পারে বড় বিপদ!

সনাতন ধর্মে ভগবান শিবের আরাধনার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। মহাদেবের নিরাকার রূপ হিসেবে শিবলিঙ্গের পূজা করা হয়। মন্দির প্রাঙ্গণে শিবলিঙ্গের অভিষেক ও উপাসনা প্রচলিত থাকলেও, অনেকেই অত্যন্ত ভক্তিভরে নিজেদের বাড়িতেও শিবলিঙ্গ স্থাপন করেন। কিন্তু বাড়িতে শিবলিঙ্গ রাখা কি আদেও শুভ? জ্যোতিষশাস্ত্র এবং শাস্ত্রীয় বিধান এই নিয়ে ঠিক কী বলছে? এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিলেন বারাণসীর বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের (BHU) জ্যোতিষ বিভাগের অধ্যাপক পণ্ডিত সুভাষ পাণ্ডে।
বাড়িতে কোন শিবলিঙ্গ রাখা বৈধ? পণ্ডিত সুভাষ পাণ্ডে জানান, শিবলিঙ্গ স্থাপন দুই প্রকারে হয়—প্রাণ প্রতিষ্ঠা এবং চল প্রতিষ্ঠা। মন্দিরে সাধারণত প্রাণ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শিবলিঙ্গ স্থাপন করা হয়, যার নিয়ম অত্যন্ত কঠোর। অন্যদিকে, বাড়িতে পুজোর জন্য শাস্ত্র অনুসারে ‘চল প্রতিষ্ঠা’ করা হয়। বাড়িতে কেবলমাত্র নর্মদেশ্বর শিবলিঙ্গ পুজো করাই শাস্ত্রসম্মত। তবে মাথায় রাখতে হবে, বাড়িতে রাখা এই শিবলিঙ্গ যেন আকারে খুব ছোট হয়, সর্বোচ্চ মানুষের হাতের বুড়ো আঙুলের মাপের সমতুল্য। নর্মদেশ্বর শিবলিঙ্গ বাড়িতে চল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে রেখে নিয়মিত জল নিবেদন ও অভিষেক করলে তা গৃহস্থের জন্য অত্যন্ত শুভ ফলদায়ক হয়।
মন্দির ও গৃহের বাস্তু যোগ: অনেকেই ভক্তিভরে বাড়ির ঠিক সামনে ছোট মন্দির তৈরি করেন। কিন্তু শাস্ত্র ও বাস্তুশাস্ত্র অনুসারে এটি নিষিদ্ধ। মন্দির এবং আবাসিক গৃহের মধ্যে নির্দিষ্ট দূরত্ব থাকা জরুরি। বিশেষ করে যদি সেই মন্দিরে বিগ্রহের প্রাণ প্রতিষ্ঠা করা হয়ে থাকে। বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী, মন্দিরের পবিত্রতা রক্ষায় বেশ কিছু নিয়ম রয়েছে। এমনকি কোনো পবিত্র মন্দিরের চূড়ার ছায়া যেন সরাসরি বসতবাড়ির ওপর না পড়ে, সেদিকেও খেয়াল রাখা দরকার। এর অন্যথা হলে বাড়িতে নেতিবাচক শক্তির প্রভাব পড়তে পারে এবং বাস্তু ত্রুটি দেখা দিতে পারে। তাই বাড়িতে শিবলিঙ্গ স্থাপনের আগে শাস্ত্রীয় শুদ্ধতা এবং নিয়মগুলি মেনে চলা একান্ত আবশ্যক।