সন্তান নাকি নিছক ‘প্রজেক্ট’? ভারতীয় অভিভাবকদের ‘প্রেসার কুকার’ দাওয়াই নিয়ে ভাইরাল সিইও-র পোস্ট!

ঘরের ভেতরকার চেনা ছবিটা যখন জনসমক্ষে আসে, তখন তা কখনও কখনও আগ্নেয়গিরির মতো বিস্ফোরক হয়ে ওঠে। সম্প্রতি গুরুগ্রামের এক স্টার্টআপ সিইও-র একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঠিক এই কাজটাই করেছে। ভারতীয় পরিবারগুলোতে সন্তান লালন-পালনের চিরাচরিত ধরন বা ‘প্যারেন্টিং’ নিয়ে এমন এক সত্য তিনি সামনে এনেছেন, যা লক্ষ লক্ষ মানুষের মনে প্রতিধ্বনি তুলেছে। শুরু হয়েছে এক গভীর বিতর্ক—আমরা কি সত্যিই সন্তান মানুষ করছি, নাকি তাদের ওপর কেবল নিজেদের অপূর্ণ ইচ্ছার বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছি?
‘প্রেসার কুকার’ প্যারেন্টিং বনাম শৈশব গুরুগ্রাম ভিত্তিক স্টার্টআপ ‘নট ডেটিং’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও জসভীর সিং তাঁর একটি পোস্টে ভারতীয় অভিভাবকত্বকে ‘প্রেসার কুকার প্যারেন্টিং’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, এটি বিশ্বের অন্যতম নিকৃষ্ট মডেল। জসভীর দাবি করেছেন, ভারতে বেশিরভাগ বাবা-মা তাঁদের সন্তানদের রক্ত-মাংসের মানুষ হিসেবে নয়, বরং একটি ‘রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট’ বা লাভজনক প্রকল্প (প্রজেক্ট) হিসেবে দেখেন। শিশুর জন্মের আগেই অনেক সময় ঠিক হয়ে যায় সে কোন স্কুলে পড়বে, কোন ক্যারিয়ার গড়বে, এমনকি কার সাথে জীবন কাটাবে। এই রুদ্ধশ্বাস প্রক্রিয়ায় শিশুর নিজস্ব কৌতূহল, আগ্রহ এবং মানসিক স্বাস্থ্য পুরোপুরি ধামাচাপা পড়ে যায়।
ব্যর্থতা যখন সামাজিক অপরাধ সিইও জসভীর সিং আরও একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয় তুলে ধরেছেন—ব্যর্থতা। তাঁর মতে, ভারতীয় পরিবারগুলোতে কোনো প্রতিযোগিতায় বা পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়াটা কেবল খারাপ ফলাফল নয়, বরং একটি সামাজিক ‘লজ্জা’ হিসেবে দেখা হয়। বাবা-মায়েরা সন্তানের মনের অবস্থার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন ‘আত্মীয়স্বজন বা প্রতিবেশীরা কী বলবে’ সেই বিষয়টিকে। এই অবিরাম লোকলজ্জার ভয় শিশুদের ভেতরটা কুরে কুরে খায়, তাদের করে তোলে ভীত ও অন্তর্মুখী।
জসভীরের এই পোস্টটি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ (সাবেক টুইটার) ভাইরাল হতেই কমেন্টের বন্যা বয়ে গিয়েছে। হাজার হাজার মানুষ স্বীকার করেছেন যে, তাঁরাও শৈশবে এই একই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গিয়েছেন। এই বিতর্ক এখন আর কেবল একটি পোস্টের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি ভারতীয় সমাজের গভীরে প্রোথিত একটি কঠোর প্রশ্ন—আমরা কি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে স্বাধীনভাবে শ্বাস নিতে দেব, নাকি প্রত্যাশার চাপে তাদের দমবন্ধ করে মারব?