এক হাতে শক্তি নেই, দুই হাত মেলালেই চলে কলম! অদম্য জেদে মাধ্যমিক দিচ্ছে মালদহের অরিজিৎ

শারীরিক প্রতিকূলতা তাঁর চলার পথকে বারবার থমকে দিতে চেয়েছিল, কিন্তু মনের জোরের কাছে সেই বাধাও আজ নতমস্তক। এক হাতে কলম ধরার মতো শক্তি নেই, এমনকি স্নান থেকে খাওয়া— সবটাই মা করিয়ে দেন। তবুও জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষা মাধ্যমিকে নিজের হাতেই উত্তর লিখছে মালদহের অরিজিৎ মণ্ডল। কালিয়াচকের আকন্দবেড়িয়া গ্রামের এই কিশোরের লড়াকু মানসিকতা দেখে আজ অবাক শিক্ষক থেকে পর্ষদ কর্তারা।

কালিয়াচকের গয়েশ্বরী প্যারিভূষণ বিদ্যানিকেতনের ছাত্র অরিজিতের পরীক্ষাকেন্দ্র পড়েছে সাহাবাজপুর উমাচরণ হাই স্কুলে। জন্ম থেকেই তার দুই হাত ও ডান পায়ে গুরুতর সমস্যা। এক হাতে কাজ করতে না পারলেও, অরিজিৎ অসাধ্যসাধন করছে দুই হাত জড়ো করে কলম ধরে। মধ্যশিক্ষা পর্ষদের নিয়ম অনুযায়ী তাকে ‘রাইটার’ বা লেখক দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু অরিজিৎ তা সবিনয়ে প্রত্যাখ্যান করেছে। সে চায় নিজের সাফল্য নিজের হাতেই লিখতে। পর্ষদ তাকে অতিরিক্ত ৪৫ মিনিট সময় দিয়েছে, আর সেই সময়ের সদ্ব্যবহার করে সে অনায়াসেই শেষ করছে প্রতিটি পরীক্ষা।

ভবিষ্যতে অঙ্ক নিয়ে পড়ে শিক্ষক হতে চায় অরিজিৎ। তার মা শেফালি দেবী জানান, জন্ম থেকেই ছেলের এই শারীরিক সমস্যা থাকলেও পড়াশোনার প্রতি তার টান ছিল অদম্য। বড় ছেলে হিসেবে অরিজিতের এই লড়াইয়ে গর্বিত বাবা অখিল মণ্ডলও। মধ্যশিক্ষা পর্ষদের মালদহের যুগ্ম আহ্বায়ক বিপ্লব গুপ্ত অরিজিতের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। মালদহের এই লড়াকু কিশোর আজ প্রমাণ করে দিল যে, হাতের জোরের চেয়েও মনের জোর অনেক বেশি শক্তিশালী।