“ইট ছুড়লেও আমি শক্ত দাঁড়িয়ে থাকব!” খুনের শিকার মেয়ের কথা তুলে পুলিশি নোটিসের পাল্টা হুঙ্কার বিজেপি প্রার্থীর

ভোটের ঠিক আগেই তপ্ত ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চল। পানিহাটি বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী তথা আরজি কর কাণ্ডে বিচার চাওয়া ‘অভয়ার মা’ রত্না দেবনাথকে পুলিশের সমন পাঠানো ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা। তবে পুলিশের সেই সমন গ্রহণ করতে সরাসরি অস্বীকার করেছেন রত্নাদেবী। এর নেপথ্যে তিনি যে কারণ দেখিয়েছেন, তা নিয়ে এখন চর্চা তুঙ্গে।
কেন পুলিশের এই হঠাৎ তলব?
সূত্রের খবর, বিজেপি প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণার পর প্রচারে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বেশ কিছু কড়া মন্তব্য করেছিলেন রত্না দেবনাথ। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই বক্তব্যের ভিডিও ভাইরাল হতেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে করা সেই ‘কটূ’ মন্তব্যের প্রেক্ষিতেই মঙ্গলবার তাঁর বাড়িতে সমন পাঠায় পুলিশ।
সমন গ্রহণ না করার রহস্য কী?
পুলিশি সমন ফিরিয়ে দিয়ে রত্না দেবনাথের দাবি, পুলিশের পাঠানো নোটিসে তাঁর স্বামীর নাম ভুল লেখা ছিল। পদ্ধতিগত এই ত্রুটির কথা বলে সমন গ্রহণ না করলেও, রাজনৈতিকভাবে পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, এটি আসলে ভোটের মুখে তাঁকে হেনস্থা করার একটি পরিকল্পিত ছক।
পিসি-ভাইপোকে সরাসরি আক্রমণ
তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকে নিশানা করে বিস্ফোরক রত্নাদেবী বলেন:
“ভাইপো (অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়) এখানে এসে সৌজন্যের কথা বলে যাচ্ছেন, আর অন্যদিকে পিসির পুলিশ সমন পাঠিয়ে আমাকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে! তৃণমূলের ভাণ্ডারে আক্রমণ করার মতো আর কোনও শব্দ নেই, তাই এখন পুলিশের আশ্রয় নিচ্ছে।”
নিজের ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, “আমি আমার আদরের মেয়েকে হারিয়েছি, এর চেয়ে বেশি হারানোর আর কিছু নেই আমার। আপনারা ইট ছুড়লেও আমি মাথা নত করব না। আমি শেষ পর্যন্ত লড়ে যাব।”
তপ্ত পানিহাটি: কী বলছে তৃণমূল?
গত সপ্তাহেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পানিহাটির কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছিলেন বিজেপি প্রার্থীকে ব্যক্তিগত আক্রমণ না করতে। কিন্তু রত্নাদেবীর অভিযোগ অনুযায়ী, খোদ পুলিশি পদক্ষেপের কারণে সেই ‘সৌজন্যের রাজনীতি’ এখন প্রশ্নের মুখে। শাসক শিবিরের দাবি, আইন আইনের পথে চলছে এবং মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্যের জেরেই এই পদক্ষেপ।
এক নজরে বর্তমান পরিস্থিতি:
বিজেপি প্রার্থীর বাড়ির দরজায় পুলিশের সমন।
নথিতে ভুল থাকায় সমন প্রত্যাখ্যান।
ভোটযুদ্ধের আবহে পানিহাটিতে এখন চূড়ান্ত উত্তেজনা।