SIR মামলায় নবান্নের বিরাট স্বস্তি! মাইক্রো অবজার্ভারদের ক্ষমতা ছাঁটল সুপ্রিম কোর্ট, শেষ কথা বলবেন ইআরও-রাই!

রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার আইনি লড়াইয়ে বড়সড় স্বস্তি পেল নবান্ন। সোমবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে মাইক্রো অবজার্ভাররা কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না। তালিকা সংক্রান্ত যাবতীয় শেষ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকবে শুধুমাত্র ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার বা ইআরও-দের (ERO) হাতেই।
নির্বাচন কমিশনের নিয়োগ করা মাইক্রো অবজার্ভারদের নিয়ে শুরু থেকেই সরব ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর আশঙ্কা ছিল, বিজেপি শাসিত রাজ্য থেকে আসা অবজার্ভাররা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI ব্যবহার করে প্রকৃত ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দিতে পারেন। সোমবার শীর্ষ আদালতের রায় মমতার সেই দাবিকেই মান্যতা দিল। আদালত জানিয়েছে, মাইক্রো অবজার্ভাররা শুধুমাত্র ইআরও এবং এইআরও-দের কাজে সহায়তা করবেন, কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার এক্তিয়ার তাঁদের নেই।
একইসঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছে, রাজ্য সরকারের পাঠানো ৮ হাজার ৫০৫ জন গ্রুপ-বি আধিকারিককে আজ মঙ্গলবার বিকেল ৫টার মধ্যে কাজে যোগ দিতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট জেলা কালেক্টরের কাছে রিপোর্ট করতে হবে। রায়ের পর তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যা বলেছিলেন, সুপ্রিম কোর্ট সেটাই বলল। ষড়যন্ত্র করে নাম বাদ দেওয়া যাবে না।” অন্যদিকে, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর হুঁশিয়ারি, “সন্দেহজনক ভোটারদের নাম তালিকায় রাখলে ভবিষ্যতে ইআরও-দেরই দায় নিতে হবে।” সব মিলিয়ে আদালতের এই নির্দেশের পর ত্রুটিমুক্ত ভোটার তালিকা তৈরি হওয়া এখন কতখানি সম্ভব, সেটাই দেখার।