ফ্রি ফায়ারের মরণনেশা! গেম খেলতে বাধা দেওয়ায় প্রৌঢ়কে পিটিয়ে খুন, বিহারের গয়ায় শিউরে ওঠা কাণ্ড!

বিহারের গয়ায় অনলাইন গেম ‘ফ্রি ফায়ার’-এর নেশা কেড়ে নিল এক বৃদ্ধের প্রাণ। গেম খেলতে বাধা দেওয়া এবং শব্দ করতে বারণ করায় অর্জুন মাঞ্জি (৬০) নামের এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে চার কিশোরের বিরুদ্ধে। বিষ্ণুপদ থানা এলাকার সঙ্গম গলিতে এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটেছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই দুই নাবালককে আটক করেছে এবং বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে।

বকুনি দেওয়াই কি অপরাধ? নিহত অর্জুন মাঞ্জি পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি ছিলেন। তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার রাতে তিনি কাজ সেরে বাড়ি ফিরছিলেন। বাড়ির কাছেই চারজন কিশোর মোবাইলে উচ্চস্বরে চিৎকার করে ফ্রি ফায়ার গেম খেলছিল। অর্জুন বাবু তাদের হৈচৈ করতে বারণ করেন এবং সেখান থেকে সরে যেতে বলেন। গেমের নেশায় বুঁদ ওই কিশোররা এই বকুনি সহ্য করতে না পেরে বৃদ্ধের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।

উন্মত্ত কিশোরদের তাণ্ডব নিহতের পুত্রবধূ রিঙ্কি দেবী কান্নায় ভেঙে পড়ে জানান, “ছেলেরা দিনরাত এই গেম খেলে। আমার শ্বশুর তাদের থামানোর চেষ্টা করতেই তারা ওনাকে ধাক্কা মেরে মাটিতে ফেলে দেয় এবং এলোপাথাড়ি মারধর শুরু করে।” প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, কিশোররা এতটাই উন্মত্ত হয়ে উঠেছিল যে মাথায় গুরুতর চোট পেয়ে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন অর্জুন বাবু। তড়িঘড়ি তাঁকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হলে মৃত ঘোষণা করা হয়।

পুলিশি পদক্ষেপ ঘটনার খবর পেয়েই বিষ্ণুপদ থানার পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। দুই অভিযুক্ত নাবালককে আটক করা হয়েছে, তবে আরও দুইজন এখনো পলাতক। পুলিশ মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মগধ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে। থানার ইনচার্জ জানিয়েছেন, পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং অনলাইন গেমের কুফল নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।