জুনা আখড়ায় বড় ধামাকা! বহিষ্কৃত যতীন্দ্রানন্দ গিরি মহারাজের সসম্মানে প্রত্যাবর্তন: নেপথ্যে কোন রহস্য?

মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে শ্রী পঞ্চ দশনাম জুনা আখড়ায় নিজের হারানো সম্মান ফিরে পেলেন মহামণ্ডলেশ্বর যতীন্দ্রানন্দ গিরি মহারাজ। ২০২৫ সালের নভেম্বরে যাকে ‘আখড়া বিরোধী’ কার্যকলাপের অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়েছিল, আজ তাকেই সসম্মানে পুনর্বহাল করল আখড়া কর্তৃপক্ষ। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট বলছে, তার বিরুদ্ধে আনা অধিকাংশ অভিযোগই ছিল ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘বিভ্রান্তিকর’।

কেন এই বহিষ্কারের নাটক? ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালের নভেম্বরে হরিদ্বারের এক গোপন বৈঠক থেকে। অভিযোগ ছিল, ২০২৭ সালের হরিদ্বার অর্ধকুম্ভ মেলার প্রস্তুতি নিয়ে উত্তরাখণ্ড সরকার ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন স্বামী যতীন্দ্রানন্দ গিরি। ওই বৈঠকে সাধু-সন্তদের প্রতি বৈষম্যের অভিযোগ তুলে তিনি যে কড়া মন্তব্য করেছিলেন, তার ভিডিও ভাইরাল হতেই জুনা আখড়া তাকে এবং স্বামী প্রবোধানন্দ গিরিকে বহিষ্কার করে। কেড়ে নেওয়া হয়েছিল তার পুলিশি নিরাপত্তাও।

কীভাবে হলো প্রত্যাবর্তন? আন্তর্জাতিক পৃষ্ঠপোষক শ্রী মহন্ত হরি গিরি মহারাজের নির্দেশে একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। মহন্ত প্রেমগিরি মহারাজের সভাপতিত্বে গঠিত এই কমিটি পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে জানায়, মহারাজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো সত্য নয়। এরপরই জুনা আখড়ার আন্তর্জাতিক সভাপতি মহন্ত মোহন ভারতী মহারাজ ঘোষণা করেন, মহামণ্ডলেশ্বর যতীন্দ্রানন্দ গিরি মহারাজকে তার পূর্ণ মর্যাদা ও সম্মানের সাথে আখড়ায় ফিরিয়ে নেওয়া হলো।

উল্লেখ্য, রুরকির জীবনদীপ আশ্রমের এই প্রভাবশালী সন্তের সাথে মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামির ঘনিষ্ঠতা থাকলেও কুম্ভ মেলা নিয়ে মন্তব্যের জেরে তাকে কঠিন সময়ের সম্মুখীন হতে হয়েছিল। তবে তিনি ফিরে এলেও স্বামী প্রবোধানন্দ গিরির ভাগ্য এখনও ঝুলে রয়েছে।