সংসদে চরম উত্তেজনা! ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব, বিপাকে স্পিকার?

ভারতীয় রাজনীতির আঙিনায় ফের বড়সড় সংঘাতের মেঘ। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিরোধী শিবির। কংগ্রেস সাংসদ মল্লু রবি জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই সাংসদদের স্বাক্ষর সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে এবং আগামীকালই এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নোটিশ দেওয়া হতে পারে। বিরোধীদের মূল অভিযোগ— স্পিকার সংসদের কার্যবিবরণীতে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছেন এবং বিরোধী কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা চালাচ্ছেন।

কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র আক্রমণাত্মক সুরে বলেছেন, “স্পিকার সাহেব চাপের মুখে কাজ করছেন। সরকারের প্রভাবেই তিনি বিতর্কিত বিবৃতি দিচ্ছেন। সেদিন প্রধানমন্ত্রীর সংসদে আসার সাহস ছিল না বলেই স্পিকারকে দিয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ানো হচ্ছে।”

কীভাবে অপসারিত হন লোকসভার স্পিকার? সংবিধানের ৯৪ অনুচ্ছেদ এবং লোকসভার কার্যপ্রণালীর ২০০ নম্বর বিধি অনুযায়ী স্পিকারকে অপসারণের প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়।

  • নোটিশ: সংশ্লিষ্ট সদস্যকে মহাসচিবের কাছে লিখিত নোটিশ জমা দিতে হয়।

  • শর্ত: নোটিশে কোনো উপহাস বা মানহানিকর বক্তব্য থাকা চলবে না এবং অভিযোগ হতে হবে সুনির্দিষ্ট।

  • সময়সীমা: নোটিশ দেওয়ার ১৪ দিনের মধ্যে এটি আলোচনার জন্য তালিকাভুক্ত করতে হয়।

  • সমর্থন: প্রস্তাবটি পেশ করার জন্য অন্তত ৫০ জন সাংসদের সমর্থন বাধ্যতামূলক।

  • ভোটাভুটি: তৎকালীন উপস্থিত সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে প্রস্তাবটি পাস হলে স্পিকারকে পদত্যাগ করতে হয়। উল্লেখ্য, এই প্রক্রিয়া চলাকালীন স্পিকার নিজে সভাপতিত্ব করতে পারেন না।

অতীতের ইতিহাস কী বলছে? ভারতের সংসদীয় ইতিহাসে এর আগে মাত্র ৩ বার স্পিকারের বিরুদ্ধে এমন প্রস্তাব আনা হয়েছে, তবে একবারও তা সফল হয়নি: ১. ১৯৫৪ সালে জি.ভি. মাভালঙ্কারের বিরুদ্ধে আনা প্রস্তাবটি খারিজ হয়ে যায়। ২. ১৯৬৬ সালে হুকম সিংয়ের বিরুদ্ধে আনা প্রস্তাবটি প্রয়োজনীয় ৫০ জন সদস্যের সমর্থন না পাওয়ায় বাতিল হয়। ৩. ১৯৮৭ সালে বলরাম জাখরের বিরুদ্ধে আনা প্রস্তাবটিও বিতর্কের পর হাউস প্রত্যাখ্যান করে।

নীলম সঞ্জীব রেড্ডি থেকে মীরা কুমার— অনেকের বিরুদ্ধেই অতীতে আলোচনার গুঞ্জন শোনা গেলেও তা ধোপে টেকেনি। এবার ওম বিড়লার ক্ষেত্রে জল কতদূর গড়ায়, সেটাই দেখার।