১৯ বছরের অন্ধকার কাটিয়ে লাহোরের আকাশে ঘুড়ির মেলা! মরিয়ম নওয়াজের ভিডিওতে তোলপাড় নেটপাড়া

দীর্ঘ দুই দশকের দীর্ঘশ্বাস আর প্রতীক্ষার অবসান। পাক পাঞ্জাবের রাজধানী লাহোরের আকাশে আবার ডানা মেলল রঙিন ঘুড়ি। ২০০৭ সাল থেকে নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে বন্ধ থাকা শতাব্দী প্রাচীন ‘বসন্ত উৎসব’ অবশেষে সগৌরবে ফিরে এল। লাহোরের সরু গলি থেকে রাজপথ— সর্বত্রই এখন হিল্লোল তুলে বাজছে ঢোলের শব্দ, আর নীল আকাশে নিয়ন আলোর ছটা জানান দিচ্ছে, বসন্ত এসে গেছে।

নিষেধাজ্ঞার অবসান ও মরিয়ম নওয়াজের বার্তা ধারালো সুতো এবং নিয়ন্ত্রণহীন উদ্ যাপনের কারণে প্রাণহানির আশঙ্কায় ২০০৭ সালে এই উৎসব নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। দীর্ঘ ১৯ বছর পর পাঞ্জাব সরকার এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ায় খুশির জোয়ারে ভাসছে শহর। পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ বড়দিনের সময় আকাশে ঘুড়ি ওড়ার একটি ভিডিও শেয়ার করে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “২৫ বছর পর বসন্ত প্রমাণ করল লাহোরের চেতনা কেবল থমকে গিয়েছিল, ভেঙে যায়নি। এটি কেবল একটি উৎসবের শেষ ছিল না, এটি ছিল লাহোরের রাজকীয় প্রত্যাবর্তন।”

স্মৃতিতে মোড়া আকাশ লাহোরের বাসিন্দাদের কাছে ঘুড়ি ওড়ানো কেবল একটি খেলা নয়, বরং একটি যূথবদ্ধ আবেগ। শাহ জামাল নামে এক বাসিন্দা আল জাজিরাকে জানান, “ঘুড়ি ওড়ানোর সময় আমার শৈশবের স্মৃতিগুলো জীবন্ত রিলের মতো চোখের সামনে ভেসে ওঠে। বাবা আর ভাইয়ের সঙ্গে সেই কাটানো মুহূর্তগুলো ফিরে পাই।” অন্য এক বাসিন্দা ইকবালের মতে, ঘুড়ি ওড়ানো মানে মাধ্যাকর্ষণকে অস্বীকার করে আকাশের সঙ্গে পৃথিবীর এক নিবিড় সংযোগ স্থাপন করা।

নিরাপত্তার নতুন বলয় উত্তেজনা থাকলেও এবার নিরাপত্তার দিকে কড়া নজর রাখছে প্রশাসন। অতীতে মেটালিক সুতো বা চিনা মাঞ্জায় গলা কেটে মৃত্যুর ঘটনা রুখতে কড়া বিধিবিধান জারি করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও লাহোরবাসীর কাছে এই বসন্ত এক নতুন ভোরের ইঙ্গিত, যেখানে আকাশ আবার রঙিন হতে শুরু করেছে।