খাবার দেওয়ার নাম করে নৃশংসতা! বাদুড়িয়ায় প্রতিবেশী প্রৌঢ়ের লালসার শিকার বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন যুবতী

উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়া থানার অন্তর্গত চণ্ডিপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় এক নারকীয় ঘটনার সাক্ষী থাকল স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রতিবেশী এক প্রৌঢ়ের লালসার শিকার হতে হল এক বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন যুবতীকে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছে নির্যাতিতার পরিবার ও স্থানীয়রা।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত রবিবার রাতে ওই বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন যুবতী নিজের বাড়ির বারান্দায় বসেছিলেন। সেই সময় বাড়ির লোকজনের নজর এড়িয়ে পাশের রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন জনৈক প্রতিবেশী, যার বয়স ৫০ বছরের বেশি। অভিযোগ, যুবতীকে একা পেয়ে এবং তাঁর পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ওই ব্যক্তি তাঁকে খাবারের লোভ দেখায়। সেই প্রলোভনে পা দিয়েই বাড়ি থেকে বের হন যুবতী। এরপর তাঁকে পাশের একটি নির্জন লাউ বাগানে নিয়ে যায় অভিযুক্ত। সেখানেই ওই যুবতীর ওপর পাশবিক অত্যাচার ও ধর্ষণ চালানো হয় বলে অভিযোগ।
উদ্ধার ও অভিযোগ: বেশ কিছুক্ষণ পেরিয়ে যাওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা যুবতীকে বাড়ির বারান্দায় দেখতে না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। চারদিকে শুরু হয় খোঁজখবর। অবশেষে খোঁজাখুঁজি করতে করতে বাড়ির পাশের লাউ বাগানে গিয়ে পৌঁছান তাঁরা। সেখানে অত্যন্ত শোচনীয় এবং অবচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় ওই নির্যাতিতাকে। জ্ঞান ফেরার পর তাঁর কাছ থেকেই পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন ওই প্রতিবেশী প্রৌঢ়ের কুকীর্তির কথা।
পরিবারের আর্তনাদ ও পুলিশের ভূমিকা: ঘটনার পরই নির্যাতিতার পরিবার বাদুড়িয়া থানার দ্বারস্থ হয় এবং অভিযুক্ত প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। নির্যাতিতার বৌদি অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে জানান, “খাবারের লোভ দেখিয়ে ওকে নির্জন বাগানে নিয়ে গিয়েছিল। মুখ খুললে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়। আমরা এই নৃশংস ঘটনার বিচার চাই। অভিযুক্তের যেন ফাঁসি হয়।”
পুলিশ ইতিমধ্যেই নির্যাতিতার মেডিক্যাল পরীক্ষা করিয়েছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত প্রতিবেশী এলাকা ছাড়া। তাঁর সন্ধানে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় এলাকায় পুলিশি নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে এবং দোষীকে দ্রুত গ্রেফতারের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।