বাস্তিতে নিখোঁজ দারোগার দেহ মিলল অযোধ্যায়! সরযূর তীরে উদ্ধার লাশ, ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য

উত্তরপ্রদেশের বাস্তি জেলা থেকে চার দিন আগে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়া সাব-ইন্সপেক্টর অজয় গৌরের মর্মান্তিক পরিণতি ঘটল। সোমবার অযোধ্যা জেলার কোতোয়ালি এলাকার তিহুরা মাঝা সংলগ্ন সরযূ নদীর তীরে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এক পুলিশ অফিসারের এমন অস্বাভাবিক মৃত্যুতে গোটা রাজ্য পুলিশ বিভাগে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ঘটনার সূত্রপাত ৫ ফেব্রুয়ারি পরশুরামপুর থানায় কর্মরত এসআই অজয় গৌর গত ৫ ফেব্রুয়ারি আচমকাই নিখোঁজ হয়ে যান। নিখোঁজ হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই বাস্তির আমহাট ঘাট ফাঁড়ির কাছে কুয়ানো নদীর তীরে তাঁর পরিত্যক্ত গাড়িটি উদ্ধার করে পুলিশ। গাড়ির ভেতরে তাঁর ব্যক্তিগত কিছু জিনিসপত্র পাওয়া গেলেও অজয়বাবুর কোনো হদিশ মেলেনি। এরপরই কুয়ানো নদীতে ডুবুরি নামিয়ে তল্লাশি চালানো হলেও কোনো সাফল্য মেলেনি।
বাস্তি থেকে অযোধ্যা: অমীমাংসিত রহস্য তদন্তের সবচেয়ে রহস্যময় দিকটি হলো ভৌগোলিক দূরত্ব। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে যে নিখোঁজ হওয়ার দিন অজয় গৌর বাস্তি সদর দপ্তরে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে—যদি তাঁর গাড়িটি বাস্তির কুয়ানো নদীর তীরে পাওয়া যায়, তবে তাঁর মৃতদেহ কীভাবে ৪ দিন পর অযোধ্যার সরযূ নদীতে পৌঁছাল? তাঁকে কি কেউ সেখানে নিয়ে গিয়েছিল, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে সিসিটিভি ফুটেজ ও কল ডিটেইলস রেকর্ড (CDR) খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতীক্ষা মৃত অফিসারের পরিবারের দাবি, অজয় গৌরের মতো একজন কর্তব্যনিষ্ঠ অফিসার কোনোভাবেই আত্মহত্যা করতে পারেন না। তাঁদের অভিযোগ, এটি একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শ্যামাকান্ত জানিয়েছেন, “দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। জলে ডুবে মৃত্যু নাকি আঘাতজনিত কোনো কারণ রয়েছে, তা রিপোর্ট এলেই স্পষ্ট হবে।” পুলিশ সিসিটিভি এবং নজরদারি প্রযুক্তির সাহায্যে নিখোঁজ হওয়া থেকে দেহ উদ্ধার পর্যন্ত সময়ের প্রতিটি মুহূর্তের যোগসূত্র খোঁজার চেষ্টা করছে।