মাধ্যমিকে শিক্ষকের ‘কীর্তি’ দেখে চক্ষুচড়কগাছ! ক্লাসে ঢুকে উত্তর বলে দিলেন হুড়মুড়িয়ে, তারপর যা হলো…

মাধ্যমিক পরীক্ষা চলাকালীন মালদহে ঘটে গেল এক নজিরবিহীন ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা। নিজের ঘরে গার্ড দেওয়ার বদলে অন্য রুমে গিয়ে পরীক্ষার্থীদের উত্তর বলে দেওয়ার অভিযোগ উঠল এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, অভিযোগ আরও গুরুতর— তিনি নাকি একটি সাদা কাগজে নিজে হাতে উত্তর লিখে তা পরীক্ষার্থীদের সামনে জোরে জোরে পড়তে শুরু করেন, যেন তাঁরা সেই দেখে লিখে নিতে পারেন। এই ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। অভিযুক্ত শিক্ষক সনওয়ার আলি পরভেজকে ইতিমধ্যেই সাসপেন্ড করা হয়েছে।

ঘটনাটি মালদহের মথুরাপুর বিএসএস স্কুলের। জানা গিয়েছে, ওই শিক্ষকের যেখানে ডিউটি ছিল, তিনি সেখানে না থেকে পাশের ঘরে চলে যান। সেখানে গিয়ে একটি লুজ শিট হাতে নিয়ে দ্রুত প্রশ্ন দেখে উত্তর লিখতে শুরু করেন। যেহেতু সেদিন তাঁর নিজের বিষয়েরই পরীক্ষা ছিল, তাই উত্তর লিখতে তাঁর বিশেষ সময় লাগেনি। এরপর শুরু হয় সেই উত্তর পড়ে শোনানোর পালা। ঠিক যেমনভাবে ছোটদের ‘পাখি পড়ানো’ হয়, ঠিক সেভাবেই তিনি পরীক্ষার্থীদের প্রশ্ন ধরে ধরে উত্তর বলে দিচ্ছিলেন।

এই গোটা ঘটনার ভিডিও রেকর্ড করেন স্কুলেরই এক ব্যক্তি, যা মুহূর্তের মধ্যে পর্ষদের কাছে পৌঁছে যায়। ভিডিওটি দেখার পর আর এক মুহূর্ত দেরি করেনি পর্ষদ। সনওয়ার আলিকে সাসপেন্ড করার পাশাপাশি আরও ৮ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ ওঠায় তাঁদেরও সাসপেন্ড করা হয়েছে। সব মিলিয়ে মাধ্যমিক শুরুর পর থেকে এখনও পর্যন্ত ৯ জন শিক্ষক পর্ষদের কোপে পড়লেন। পর্ষদ স্পষ্ট জানিয়েছে, “পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা যদি বাতিল হওয়ার নিয়ম থাকে, তবে নিয়ম ভাঙলে শিক্ষকেরও কড়া সাজা পাওয়ার সংস্থান রয়েছে।” এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষা মহলে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে।