কাঠগোলা বাগানে নবাবীয়ানা! জমজমাট হেরিটেজ ফেস্টিভ্যালে মুর্শিদাবাদে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের ঢল

বাংলার নবাবী ইতিহাসের শহর মুর্শিদাবাদে ফের একবার উজ্জ্বল হয়ে উঠল তার গৌরবময় অতীত। কাঠগোলা বাগানের রাজকীয় প্রেক্ষাপটে ঢাকের আওয়াজ আর আঞ্চলিক নৃত্যের ছন্দে উদযাপিত হলো তিন দিনব্যাপী ‘মুর্শিদাবাদ হেরিটেজ ফেস্টিভ্যাল’। ২০১০ সাল থেকে টানা ১৫ বছর ধরে ‘মুর্শিদাবাদ হেরিটেজ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি’র উদ্যোগে এই উৎসব পালিত হয়ে আসছে, যার মূল লক্ষ্য হলো বিশ্ব পর্যটনের মানচিত্রে মুর্শিদাবাদকে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরা।
এবারের উৎসবের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল দুগ্গার পরিবারের ঐতিহাসিক কাঠগোলা প্রাসাদ ও বাগান। ইতালীয় শৈলীর স্তম্ভ, মার্বেলের মেঝে এবং সুবিশাল জলাশয় ঘেরা এই প্রাসাদে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পর্যটকদের মুগ্ধ করেছে। নবাবী আমলের স্থাপত্য, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যবাহী শিল্পকলাকে এক ছাদের নিচে নিয়ে আসার এই প্রচেষ্টা দেশি ও বিদেশি পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। তিন দিনের এই মেলায় চিত্র প্রদর্শনী, নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা, আলোকচিত্র প্রদর্শনী এবং চোখ ধাঁধানো আতশবাজির আয়োজন ছিল নজরকাড়া।
সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সন্দীপ নওলখা জানিয়েছেন, “মুর্শিদাবাদ এখন ভ্রমণপিপাসুদের অন্যতম প্রধান গন্তব্য। ১৬ বছর আগে এই উৎসব শুরু হওয়ার পর থেকে এলাকার অর্থনৈতিক ও সামাজিক চিত্র বদলে গিয়েছে। প্রতি বছর কাঠগোলা বাগানে প্রায় ১৫-১৬ লক্ষ পর্যটকের পা পড়ে।” এই ঐতিহ্যের প্রচার না করলে বাংলার নবাবী সংস্কৃতি ও স্থাপত্য রক্ষা করা অসম্ভব হয়ে পড়ত বলেই মনে করছেন উদ্যোক্তারা।